মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির এক নেতার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর একমাত্র উপায় হিসেবে জাতীয় পার্টির সংসদে যাওয়াকে উল্লেখ করে দেওয়া ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বড়ভিটা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বড়ভিটা ইউনিয়নের একটি হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত পল্লীতে গণসংযোগকালে জাতীয় পার্টির পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে বলেন, “শেখ হাসিনাকে ফেরাতে হলে জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে হবে। জাতীয় পার্টি সংসদে না গেলে শেখ হাসিনা জীবিত অবস্থায় তো নয়ই, এমনকি তার লাশও দেশে ফিরবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে ২৪৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তার ভাষায়, “লাঙ্গল যেখানে যেখানে প্রার্থী দিয়েছে, সবাইকে এমপি বানানো হবে। সরকার গঠন করতে পারলে শেখ হাসিনাকে দেশে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।”
ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভোটের দিন কোনো বাধা এলে দলীয় শক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তা মোকাবিলা করা হবে। এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির ওয়ার্ড কমিটির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে দলটির বয়কটের আহ্বান জানান।
মটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন অর রশিদ মামুন তার ফেসবুক পোস্টে জাতীয় পার্টিকে কটাক্ষ করে লেখেন, “এটাই সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জে জাতীয় পার্টির বাস্তব চিত্র। আজীবন পরজীবী দলটি নিজের কোনো অর্জন ছাড়াই সংসদ চালানোর স্বপ্ন দেখছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, “জাতীয় পার্টি আসলে আওয়ামী দালাল।” মোস্তফা কামাল লিখেছেন, “জাতীয় দালাল পার্টি।” শহিদুল ইসলাম নামে একটি আইডি থেকে চরম ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কেউ কেউ দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তুলেছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা ‘রেড জুলাই’ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন বলেন, “ভিডিওটি আমার নজরে এসেছে। গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। যারা প্রকাশ্যে ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনর্বাসনের কথা বলছে, তারা নিজেরাই ফ্যাসিস্টদের দোসর। তাদের রাজনৈতিকভাবে বয়কট করা উচিত।”
এদিকে জাতীয় পার্টির ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য শুধু একটি দলের কৌশলগত অবস্থানই নয়, বরং নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলছে।