মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় রাস্তা পারাপারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় জাপা প্রার্থীর এক গানম্যান বিএনপি কর্মীদের দিকে অস্ত্র তাক করে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডি ইউনিয়নের বাফলা মাস্টারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি সরু সড়কে পৌঁছালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের গাড়িবহরের সঙ্গে মুখোমুখি হন। এ সময় গাড়ি পারাপারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযোগ ওঠে, জাপা প্রার্থীর গানম্যান আব্দুর রাজ্জাক বিএনপি কর্মীদের লক্ষ্য করে অস্ত্র তাক করেন। এতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন কর্মী ওই গানম্যানকে আটক করেন বলে দাবি করা হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রণচন্ডি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশফিকুর রহমান জুয়েল অভিযোগ করে বলেন, “তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ।”
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে জাপা প্রার্থীর পক্ষ থেকে অবৈধ অর্থের ব্যবহার হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের ছোট ভাই তারিক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের সঙ্গে যে নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন, তিনি বৈধ লাইসেন্সধারী। অস্ত্র তাক করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি বিরোধীদের পরিকল্পিত অপপ্রচার।” তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি কর্মীরাই গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নির্বাচন সামনে রেখে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।