৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয় ও অহংকারের প্রতীক হলেও দীর্ঘ অবহেলায় আজ তা পরিণত হয়েছে সীমাহীন দুঃখের নদীতে। এই দুঃখ মোচনে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন অবস্থান নেবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের যৌথ আয়োজনে তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেছে, আসন্ন নির্বাচন তাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শনের নির্বাচন। রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, লুটপাট কিংবা ব্যবসা নয়—জামায়াত রাজনীতিকে দেখতে চায় নীতিনির্ভর শাসনব্যবস্থার হাতিয়ার হিসেবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১৩ তারিখ বাংলাদেশের পূর্ব আকাশে একটি নতুন সূর্যের উদয় হবে, যা একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনার বার্তা বহন করবে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তার পানি সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরো উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিকভাবে উর্বর ও সমৃদ্ধ করে তুলবে। একইসঙ্গে নদীভাঙনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাবে হাজারো পরিবার, যারা প্রতিবছর সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এসময় তিনি বুড়িমারি স্থলবন্দর আধুনিকায়নের দাবিকে সময়ের যৌক্তিক প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিস্তা পাড় থেকেই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের যাত্রা শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। যুগ যুগ ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ কেউ বসন্তের কোকিলের মতো শুধু সুবিধার সময়ে দেখা দেয়, কিন্তু জামায়াত সুখ-দুঃখ সব সময়েই মানুষের পাশে থাকে। আমরা সংকটে দেশ ছেড়ে পালাই না; বরং মাটি কামড়ে ধরে থাকি।

ক্ষমতার পালাবদলের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এখন বিশ্রামের সময় এসেছে পুরোনো শাসকদের। দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে জামায়াতে ইসলামী কখনো জনগণকে ছেড়ে যাবে না। তিনি ঘোষণা দেন, উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে, যেখানে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সারাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মা-বোনেরা আজ লাঞ্ছিত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও নারীর ইজ্জত রক্ষা করা হবে।

দেশের ৯ কোটি নারীকে জাতির মা হিসেবে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীশিক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং তারা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কর্মক্ষেত্রে কাজ করবেন।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণের দুটি ভোট রয়েছে। প্রথমটি গণভোট—যেখানে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি এবং ‘না’ মানে গোলামি। আগামী ১২ তারিখ সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহের। এসময় কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জামায়াত আমির নীলফামারীর চারটি ও লালমনিরহাটের তিনটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top