খালিদ হোসেন হৃদয়, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির উগ্র আচরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও ভয়-ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক একটি ঘরোয়া আলোচনাকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলম ও তার ভাইদের হামলায় মোহাম্মদ জমিন প্রামাণিক (৪০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
আহত মোহাম্মদ জমিন প্রামাণিক চক্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তিনি চক্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে তার চাচাতো ভাই ও ভাতিজাদের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় যোগী বাজারের দিকে যাওয়ার পথে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলম মোটরসাইকেল থামিয়ে সেখানে এসে আলোচনার মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন।
একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন উপস্থিত লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষান্ত না হয়ে মোহাম্মদ আলম ফোন করে তার ভাই মোহাম্মদ আনিস, মোহাম্মদ আনসার, মোহাম্মদ টিটু এবং ভাতিজা শিহাবসহ আরও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। তারা এসে মোহাম্মদ জমিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে গুরুতরভাবে আহত করে।
ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রওনা হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত মোহাম্মদ জমিনকে দ্রুত ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় উগ্র আচরণ ও ভীতি প্রদর্শনের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। এর ফলে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গ্রামবাসী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানিয়েছেন।