মোঃ বাদশা প্রামানিক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন উৎসবমুখর। প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে সোমবার এই জনপদে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতি ইসলামের স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ ও বিশাল এক নির্বাচনী মিছিল। বিশেষ করে সকালে অর্ধ লক্ষ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বিকেলে অর্ধ লক্ষ পুরুষদের বিশাল মিছিল জামায়াতের নির্বাচনী আমেজে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা।
নারীদের মিছিলে রাজপথ যেন জনারণ্য: সোমবার সকাল ১০টায় ডিমলা মেডিকেল মোড়স্থ উপজেলা জামায়াত কার্যালয় থেকে শুরু হয় নারীদের এক অভূতপূর্ব পদযাত্রা। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় অর্ধলক্ষাধিক নারীর পদচারণায় ডিমলা শহর হয়ে ওঠে লোকারণ্য। হাতে হাতে দাঁড়িপাল্লা সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন, আর মুখে নির্বাচনী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। নারীদের এমন বিপুল উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবেই দেখছেন সাধারণ ভোটাররা।
বিকেলে পুরুষদের বজ্রকণ্ঠ: সকালের রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেল ৪টায় শুরু হয় পুরুষদের বিশাল মিছিল। একই স্থান থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে অংশ নেন৫৫ থেকে ৬০ হাজার জনতা। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের স্লোগানে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে, যা পুরো এলাকায় এক টানটান উত্তেজনা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
নেতৃত্বে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার: উভয় মিছিলেই সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন:”নারীদের এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোমার-ডিমলা আসনটি বরাবরই হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াইয়ের ক্ষেত্র। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতের এই বিশাল ‘শো-ডাউন’ নির্বাচনী সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নীলফামারী-১ আসনের প্রতিটি জনপদে এখন কেবলই নির্বাচনের গুঞ্জন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই ব্যাপক অংশগ্রহণ আগামী দিনে এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।