এম,এম,রহমান,উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া) আসনে রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। দলবদল, সংখ্যালঘু ভোটের গুরুত্ব এবং তৃণমূলের অসন্তোষ—সব মিলিয়ে এ আসনে তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ।
সম্প্রতি বিএনপির একাধিক শীর্ষ ও তৃণমূল নেতা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বানারীপাড়া বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ঘটনায় ভোটের হিসাব-নিকাশ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপি প্রার্থী এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতাদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নামাতে না পারার অভিযোগ রয়েছে। এতে দলীয় ভেতরে চাপ ও অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
২৩ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট—‘কিংমেকার’ কারা?
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৮ জন। এর মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটার ৮৯ হাজার ৪৬২ জন—যা প্রায় ২৩ শতাংশ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ বড় ভোটব্যাংকই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
স্থানীয় সংখ্যালঘু ভোটারদের ভাষ্য, এবার তাদের ভোটের গুরুত্ব বেড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরাসরি যোগাযোগ ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে।
নিষিদ্ধ দলের সমর্থক ঘিরে টানাপোড়েন
নির্বাচনী সুবিধা আদায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিজেদের পক্ষে টানতে বিভিন্ন পক্ষের তৎপরতা চলছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ সুযোগে একটি দালালচক্র সক্রিয় হয়ে অর্থ লেনদেন করছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন
প্রার্থীদের বক্তব্য
বিএনপি প্রার্থী এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, “দলের নামে কেউ অনৈতিক কাজ করলে তার দায় আমি নেব না।” জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন, “সব সম্প্রদায়ের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।”
প্রশাসনের আশ্বাস
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানিয়েছেন, নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো অবৈধ প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না।
ভোট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল-২ এখন জাতীয় রাজনীতির নজরে। চূড়ান্ত সমীকরণ মিলবে ব্যালটেই।