১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৫শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নীলফামারীর চার আসনেই বিজয়ী জামায়াত: ভোটের লড়াইয়ে নতুন ইতিহাস

মোঃ বাদশা প্রামানিক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে টানটান উত্তেজনার ভোট গণনা শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

​নীলফামারী- (ডোমার-ডিমলা) ১৫৪টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে মাওলানা আব্দুস সাত্তার (দাঁড়িপাল্লা) ১,৪৯,২১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (খেজুর গাছ) পেয়েছেন ১,১৮,১৬০ ভোট।

নীলফামারী-২ (সদর) সদরের লড়াইয়ে আল ফারুক আব্দুল লতিফ ১,৪৫,২০২ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন পেয়েছেন ১,৩৪,৫৭৯ ভোট।
​নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) জলঢাকায় মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি ১,০৮,৫৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯,১০২ ভোট।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) এ আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল সবথেকে বেশি। হাফেজ আব্দুল মুত্তাকিম ১,২৪,৮৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১,৫২৬ ভোট।

বিজয়ী প্রার্থীরা এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, “এই জয় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। আমরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সুশাসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ নীলফামারী গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

দীর্ঘদিন পর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বসিত। স্থানীয় ভোটারদের মতে, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের দ্রুত উন্নয়নই হবে নতুন বিজয়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নীলফামারীর রাজনীতির এই নতুন মেরুকরণ জেলায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top