নিজস্ব প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নবীন, প্রবীণ ও দক্ষ নেতৃত্বের সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানকে একত্রিত করাই নতুন মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য।
এদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শপথকক্ষে নির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৪০ সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, যার মধ্যে ২৬ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ১০ থেকে ১২ জন প্রতিমন্ত্রী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ মুহূর্তে সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে।
সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-এর কর্মকর্তারা শপথ অনুষ্ঠানের মহড়া সম্পন্ন করেছেন। মহড়ায় প্রায় ৪০ জন সদস্যের উপস্থিতি ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। দলীয় পর্যায়ে যেসব নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে। পাশাপাশি কয়েকজন টেকনোক্র্যাট অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ও জনগণের আস্থাভাজন ব্যক্তিদেরই মন্ত্রিসভায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
শপথের ধরন ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও আলোচনা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ও তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত না হলে এ ধরনের শপথের প্রশ্ন ওঠে না।
নতুন সরকারের সামনে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বিএনপির নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রয়োজন। জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর ‘মন্ত্রিপাড়া’য় সরকারি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহনও প্রস্তুত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শপথ অনুষ্ঠানের আগে প্রথাগত ফোনকলের পরিবর্তে সবাই নিজ উদ্যোগে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং শপথ শেষে সরকারি গাড়িতে ফিরবেন।
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।