মোঃ নাঈম ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউপি সদস্য, চামেলী বেগমের (৪৫) মায়ের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে প্রতিপক্ষরা। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে হালিমা বেগমের(৬৫) নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর অবস্থায় হালিমা বেগমকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হালিমা বেগমকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এতে আহত হালিমা বেগমের শরীর ও ডান কানের নিচে গলার কিছুটা অংশ ঝলছে গেছে। আহত হালিমা বেগমকে কর্মরত চিকিৎসকরা নিবিড়ভাবে দেখভাল করছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নাজিরপুর ইউনিয়নে এক শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় একই গ্রামে প্রতিবেশী সম্পর্কে তার আত্মীয় নজরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানাতে এক শিশু ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়।
আরও জানা যায়, ধর্ষণ মামলাতে সহযোগিতা ও সাক্ষী দেন হালিমা বেগমের মেয়ে ইউপি সদস্য চামেলী বেগম। ধর্ষণ মামলায় নজরুল ইসলামের জেল হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় নজরুল ও তার পরিবার। এনিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চলে আসছিল দ্বন্দ্ব।
চামেলী বেগম বলেন, আমাদের গ্রামে এক শিশু ধর্ষষের ঘটনায় অভিযুক্ত আসামী নজরুলকে ধরতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা ও সেই মামলার সাক্ষী হই। এতে ক্ষিপ্ত হয় নজরুল ও তার পরিবার। কয়েকমাস জেল খাটার পর জামিনে বের হয়ে আমাকে মামলা উঠিয়ে নিতে প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে আমি রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় নজরুল আমাকে হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, গতকাল মধ্যরাতে আমার মা হালিমা বেগম ও মেয়ে শাবানা (২২)প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হয়। লুকিয়ে থাকা অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মেয়ে শাবানাকে লক্ষ্য করে এসিড নিক্ষেপ করে। এটা বুঝতে পেরে চিৎকার করে মেয়ে শাবানাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় আমার মা । এসিড পড়ে মায়ের শরীরে। চিৎকার শুনে স্বজনরা বের হলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে দেখি আমার মা হালিমা বেগম মাটিতে শুয়ে পড়ে কাঁদছে। এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে এটা শুনে তাকে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
আমি স্থানীয় প্রশাসনের নিকট বিচার চাই।
গুরুদাসপুর থানার ইনচার্জ শফিকুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে থানাতে কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করে নাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।