সজীব হাসান (বগুড়া) প্রতিনিধি :
বগুড়ার ধুনট থানার সাবেক ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ মামলার আলামত নষ্টের অভিযোগ তদন্ত ও সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রæয়ারী) বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব শাহরীন নিজ কার্যালয়ে প্রায় ৪ ঘন্টাব্যাপী ১০ জন স্বাক্ষীর মৌখিক ও লিখিত সাক্ষ্য গ্রহন করেন।
এ সময় চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্তকৃত কৃপা সিন্ধু বালা উপস্থিত থেকে স্বাক্ষীদের জেরা করেন। বাদির অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার কলেজ শিক্ষক দম্পতির স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য নিজের মুঠোফেনে ভিডিও ধারণ করে প্রভাষক মুরাদুজ্জামান (৫০)। মুরাদুজ্জামান উপজেলার শৈলমারি গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদি হয়ে ২০২২ সালের ১২ মে ধুনট থানায় মুরাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেন ধুনট থানার তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্ধু বালা। ওই মামলায় মুরাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তাকালে জব্দকৃত মুঠোফোনে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণের প্রমান পেয়েছে পুলিশ।
কিন্ত মামলা তদন্তকালে ওসি কৃপা সিন্ধু বালা আসামির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জব্দকৃত মুঠোফোন থেকে ধর্ষণের ভিডিওসহ বেশকিছু আলামত নষ্ট করে। বিষয়টি বুঝতে পেয়ে পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন মামলার বাদি।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং তাকে চাকরী থেকে সাময়িকভাবে বরখান্ত করা হয়। বাদির অভিযোগটি তদন্তের জন্য বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব শাহরীনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্ট করার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ৭অক্টোবর কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব শাহরীন জানান, কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার বাদির অভিযোগে প্রেক্ষিতে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলার স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহন ও তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা