মোহাঃ রকিব উদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। শহীদ মিনারের প্রবেশমুখে টাঙানো এক ব্যানারে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর শহীদ আবু সাঈদের ছবি ব্যবহারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মধ্যরাতের শ্রদ্ধা, ভোরের বিতর্ক
২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ চত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তবে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে কলেজ গেটে জেলা প্রশাসনের টাঙানো একটি ব্যানার। অভিযোগ ওঠে, সেখানে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পরিবর্তে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতীকী’ না ‘প্রাসঙ্গিকতার ঘাটতি’?
সমালোচকদের দাবি, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের দিনটিতে ভাষা শহীদদের ছবি না রেখে অন্য ঘটনার শহীদের ছবি ব্যবহার করা অনুচিত। তাদের ভাষ্য—এতে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ঝাপসা হয় এবং ভাষা শহীদদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শিত হয়।
ভাষাসৈনিক পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের উত্তরসূরিরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এটিকে ‘ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, জুলাই বিপ্লব ও ২১ ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য একসঙ্গে তুলে ধরতেই ব্যানারটি করা হয়েছে। তার ভাষায়, আবু সাঈদের ছবি প্রতীকীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং একুশে ফেব্রুয়ারি বললেই ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
শহীদ দিবস পালিত হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে। পরবর্তীতে UNESCO ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী উদ্যাপিত হচ্ছে।