মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। রমজানকে ঘিরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর, বালিয়াকান্দি, জামালপুর, বাণিবহ, রাজবাড়ী নতুন বাজার, গোয়ালন্দে লেবুর দাম তিন থেকে চারগুণ বেড়ে গেছে। মাত্র একসপ্তাহ আগে এক হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, এখন সেই লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় শষা, বেগুনের দাম এবারে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচেরও। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ২২০ দরে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিকন বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। টমেটো ৫০-৬০ টাকা, গাজর ৫০-৫৫ টাকা, মুলা ২০-৩০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩৫ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জানা গেছে, রোজার ইফতারে শরবতের অন্যতম অনুষঙ্গ লেবু। কিন্তু রোজা শুরু হওয়ার সাতে সাথেই সেই লেবুর জন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বাজারে এখন ১ হালি (৪টি) মাঝারি সাইজের লেবু ৬০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। জাতভেদে ছোটগুলোর দাম ৪০ টাকা। বাজারে তিন আকারের লেবু দেখা গেছে। সবচেয়ে বড় লেবুর হালি ৭০ টাকা, মাঝারি ৬০ টাকা এবং ছোট লেবু ৫০ টাকা।
সোহরাব হোসেন নামে এক লেবু ব্যবসায়ী বলেন, কিছুদিন আগেও এক বস্তা লেবুর দাম ছিল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন কিনতে হয় সাড়ে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়। বেশি দামে কেনা, তাই বিক্রিও বেশি দামে। প্রতি বস্তায় ৩৫০ থেকে ৪০০ পিস লেবু থাকে।
লেবু বাগানের মালিক বিল্লাল হোসেন, বড়মনি, আব্দুস সাত্তার, লিটন মৌলিক, আব্দুল কুদ্দুস, তৈয়বুর রহমান, জাকির হোসেন বলেন, লেবুর মৌসুম এখন না, তাই দাম বেশি। উৎপাদন খরচও বেশি। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন কম থাকলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক, সেচ খরচ দিয়ে কিছু টাকা লাভে থাকছে। অথচ যখন উৎপাদন বেশি ছিলো তখন লেবুতে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকেই বেশি দামে কেনা, বাড়তি দামে বেচা। তাদের মতে, বৃষ্টির মৌসুমে লেবুর দাম কমে যাবে। তখনই মূল মৌসুম লেবুর। ফলন বেশি হলে দামও কমে যয়।
পাইকারি আড়তে বড় ১ পিস লেবু ১৩ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর ছোট সাইজের লেবুর দাম ১০ থেকে ১২ টাকা বলেও জানান তারা। রমজানে চাহিদা বেশি থাকে। তবে এবার লেবুর মৌসুম আসেনি এখনো। এমন সময় রোজার মাস পড়েছে। মৌসুম ছাড়া দাম কমার সম্ভাবনাও কম বলে জানান এই এলাকার ব্যবসায়ীরা।
ক্রেতারা সবাই প্রায় অভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, রমজান মাস শুরু হয়েছে। তাই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। প্রত্যেক বছর রোজা আসলেই নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়।
মোঃ আবদুল রব বিশ্বাস নামে একজন ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, রমজান সবেমাত্র শুরু হয়েছে। আর সেই সাথে লেবুর দাম বেড়ে গেছে। রমজানের দিন বাড়ার সাথে সাথে দাম আরও বেড়ে যাবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ বলেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে নবাবপুর, ইসলামপুর, বহরপুর ও জামালপুর ইউনিয়নে বাণিজ্যিক হারে লেবুর চাষ হয়। উপজেলায় মোট ২৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস এবং উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ প্রতিনিয়ত চাষিদেরকে পরামর্শ প্রদান করে আসছে। কৃষি পরামর্শ গ্রহণ করে চাষাবাদ করে চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন বলেও তিনি জানান।