২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

স্টোক করে হাসপাতালে নজরুলিয়ান , অফিস টাইম ছাড়া কল না দেওয়ার নির্দেশ হল প্রভোস্টের

মোছাঃ মাহমুদা আক্তার নাঈমা, জাককানইবি প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়) দোলনচাঁপা হলের আবাসিক এক শিক্ষার্থী স্ট্রোক করলে অতিদ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করায় উক্ত হলের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, এসময় মুঠোফোনে পরিস্থিতির বৃত্তান্ত জানালে অফিস টাইম ছাড়া কল না দেওয়ার নির্দেশ দেন উক্ত হলের দায়িত্বে থাকা হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দোলনচাঁপা হলে সিএসই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ওই শিক্ষার্থী রুমকেন্দ্রিক ঝামেলায় অসুস্থ হয়ে প্রথমে চেতনা হারান এবং পরে স্ট্রোক করেন বলে জানা যায়। এসময় তার বন্ধুরা তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

এই ঘটনায় হলের এক শিক্ষার্থী পরিচয় গোপন রেখে দায়িত্বে থাকা হল প্রভোস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক উম্মে ফারহানাকে কল করে জানালে তিনি বলেন, “অফিস টাইম ছাড়া কল দেওয়া যাবে না।”

এদিকে, উনার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাংবাদিক সংগঠন থেকে ফটোকার্ডের মাধ্যমে সামনে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

উক্ত ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত সাংবাদিক সংগঠনের এক সাংবাদিকের সাথে ফোনে কথোপকথনে তিনি নিজের সরব প্রতিক্রিয়া জানান। রেকর্ডকৃত ফোনালাপে দেখা যায়, এসময় চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর অবস্থার চেয়ে উনার কথাকে সংবাদে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি অসন্তুষ্ট। একই সঙ্গে অসময়ে কল দেওয়ায় বিরক্তি নিয়ে বলেন,
“আপনাদের সাংবাদিকগিরি একধরনের ফাত্রামি ছাড়া কিছু না।”
পাশাপাশি শুক্রবার-শনিবার কল দিতে মানা করার ফলে সাংবাদিকদের কাছে প্রভোস্টের নামে নালিশ করায় উক্ত শিক্ষার্থীকে ‘বেয়াদব, বেত্তামিজ মেয়ে’ বলে দাবি করেন তিনি।

উনার মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উনাকে বিভ্রান্ত করতে হাউজ টিউটরদের কল না দিয়ে উনাকে কল দেওয়া হয়েছিল। উনি হাউজ টিউটরদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন। উনাকে কল না দিয়ে তাদের কল দেওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি তিনি এটাও উক্ত শিক্ষার্থীকে বলেছেন যে, উনি বিষয়টি দেখছেন। উনার হাউজ টিউটরদের থেকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন। আর সঙ্গে জানিয়েছেন, এরকম অসময়ে কোনো শিক্ষককেই কল না দিতে।

এদিকে, রেকর্ডকৃত ফোনালাপের এক পর্যায়ে শোনা যায়, চরম বিরক্তি নিয়ে তিনি উক্ত শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, “আমি ওই মেয়েকে খুঁজে তার সিট বাতিল করব।”

এছাড়াও আরও অশোভন প্রতিক্রিয়া জানান অসময়ে কল দেওয়া উক্ত শিক্ষার্থীর প্রতি।

এ ঘটনার পর রেকর্ডকৃত ঐ ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন হল প্রভোস্টের আচরণবিধি ও বিবেচনাবোধকে ঘিরে এসময় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। পাশাপাশি, হল প্রভোস্টের অশোভন শব্দচয়ন, হুমকি এবং আবাসন কেন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নয়,এ নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রসঙ্গত,মুঠোফোনে এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করা হয়।কিন্তু তিনি হলের বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top