৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজশাহীর নবগঙ্গা ও বারাহী নদী দখল-দূষণ বন্ধসহ পুনঃখননের দাবি

আবু রায়হান, রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর পদ্মা থেকে উৎসারিত নবগঙ্গা ও বারাহী নদী দখল-দূষণ বন্ধসহ পুনঃখননের দাবি জানিয়েছে গ্রিন কোয়ালিশন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও বারসিক। রবিবার বারসিক রাজশাহী রিসোর্স সেন্টার সেমিনার কক্ষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রীন কোয়ালিশন রাজশাহীর আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী, পবা উপজেলার আহ্বায়ক রহিমা খাতুন, বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারি শহিদুল ইসলাম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, রাজশাহী নগরের অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে নগর সংলগ্ন নদী, বিল ও জলাধারসমূহ মারাত্মক দূষণ, দখল ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। চরমভাবাপন্ন রাজশাহীর পরিবেশ প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সম্মেলনে বলা হয়, রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ড্রেন ও নালা দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত তরল বর্জ্য প্রবাহিত হয়ে স্মরমঙ্গলা নদী, বারাহী নদী, নবগঙ্গা নদী ও বারনই নদীতে গিয়ে পড়ছে। পদ্মা থেকে উৎসারিত এই নদীগুলো একসময় ছিল স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে এসব নদীর পানি কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে, তলদেশে পলি ও প্লাস্টিক জমে প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে এবং মাছসহ জলজ প্রাণের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্থানীয় জেলেরা আয় হারাচ্ছেন এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশগত চরিত্র নষ্ট হচ্ছে।

নগরের বিষাক্ত তরল বর্জ্য নিম্নাঞ্চলে জমা হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করছে সাপমারার বিল, বকমারি বিল, ভূগরোইল বিল, পাইকরের বিল, বড়বাড়িয়া বিল ও কর্ণাহার বিল। হাজার হাজার হেক্টর এসব বিল দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও প্রাকৃতিক বাস্তুন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, দূষিত পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, জলজ উদ্ভিদ ও মাছের উৎপাদন কমে গেছে এবং বিলের পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করছে।

ফলে কৃষি উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দূষিত পানি নিম্নপ্রবাহে নাটোর জেলার চলন বিল পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি।

সংগঠনগুলোর মতে, এই পরিস্থিতি পরিবেশগত সমস্যার পাশাপাশি এটি জনস্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের প্রশ্ন। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এই সংকট বৃহত্তর পরিবেশগত বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

সার্বিক এই ভয়াবহতা থেকে উত্তরণে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সংবাদ সম্মেলন থেকে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। উত্থাপিত দাবিসমূহ হলো, পদ্মা থেকে উৎসারিত স্বরমঙ্গলা নদী, বারাহী নদী, নবগঙ্গা নদীগুলো অবিলম্বে দখল-দূষণমুক্ত করতে হবে; রাজশাহী নগরের তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে আধুনিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন ও কার্যকর করতে হবে; সকল শিল্প, হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ঊঞচ) নিশ্চিত ও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে; বারনই, বারাহী ও নবগঙ্গা নদীসহ পদ্মা থেকে উৎসারিত অন্যান্য নদী ও সংযোগ বিলসমূহে সরাসরি ড্রেন সংযোগ, দখল-দূষণ বন্ধ করতে হবে। দখল-দূষণের উৎস শনাক্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে; সাপমারার বিল, বারি বিল, ভূগরোইল বিল, পাইকরের বিল, বড়বাড়িয়া বিলসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিল ও নদীর পানি ও মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করে ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে; নদী-বিল দখল ও ভরাট বন্ধ করে সমন্বিত পুনরুদ্ধার মাস্টারপ্ল্যান স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ-যুব, পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top