মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
গাছে গাছে সবুজ পাতার সমারোহ। এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। ফাল্গুনের শুরুতে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি, পাংশা, কালুখালী, গোয়ালন্দ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমের গাছে গাছে দেখা দিয়েছে মুকুলের সমারোহ। উপজেলা গ্রাম অঞ্চল থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনা সব খানেই এখন আমের মুকুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রকৃতির এই মনোরম দৃশ্য স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মনে জাগিয়েছে ভালো ফলনের আশাবাদ।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় বেশকিছু জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ রয়েছে। এর মধ্যে গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলী, কলাপতি ও আম্রপালি জাতের আম বেশি দেখা যায়। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবং ঘন কুয়াশা ও পোকার আক্রমণ কম হলে এবার আমের ভালো ফলন হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামের আমচাষি মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, ‘এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। যদি অতিরিক্ত কুয়াশা না পড়ে এবং মোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, তাহলে গত বছরের চেয়ে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।’
অপর কৃষক মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, আমি বেশ কয়েকজনের পর আমার ফাঁকা জমিতে আমের চাষ শুরু করেছি। গতবছর প্রথমবারেই আশানুরূপ ফলন পেয়েছিলাম। এবছর ফাল্গুন আসতেই আমের গাছে গাছে মুকুলের সমাহার শোভা পাচ্ছে। আশা করছি ঘন কুয়াশা না পড়লে এবং কোনোপ্রকার পোকামাকড়ের আক্রমণ না হয় তাহলে ভালো ফলন আশা করছি।
কালুখালীর একচাষি লুৎফর রহমান জানান, “আমি দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়া আসা করেছি। ব্যবসায়ীক একটি কাজে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতে গিয়ে আমের আবাদ দেখতে পেয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার ৩০ শতাংশ জমিতে কয়েকটি প্রজাতির আমের চাষ করেছি। আম চাষে মোটামুটি লাভের মুখ দেখায় আমি আশা করছি আরও জমিতে আমের চাষ করবো।”
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, উপজেলার বেশ কিছু জায়গায় কৃষকরা আম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকের দ্বার প্রন্তে কৃষি সেবা পৌঁছে দিতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন। গাছে গাছে মুকুল আসার সময় ঘন কুয়াশা ও অতি বৃষ্টি হলে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া হপার, মিলিবাগসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ জন্য চাষিদের নিয়মিত বাগান পরিচর্যা ও পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে কৃষি দপ্তরের পক্ষে থেকে।
প্রতিবছর রাজবাড়ী জেলার উৎপাদিত আম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে সরবরাহ করা হয়। ফলে আম মৌসুমকে ঘিরে
এখানকার অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।