১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নীলফামারীতে নকল ঔষধ বিক্রির দায়ে আটক ১

মো. সাইফুল ইসলাম  নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় দেশের স্বনামধন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড-এর প্রতিনিধি পরিচয়ে নকল ওষুধ বাজারজাত করার দায়ে মৃনাল অধিকারী (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জলঢাকা উপজেলার জিরো পয়েন্ট বাজারে অবস্থিত মেসার্স অনিন্দ্য ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযুক্ত মৃনাল অধিকারী নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের চাপানী এলাকার বাসিন্দা এবং প্রতাপ চন্দ্র অধিকারীর পুত্র।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অভিযুক্তের কাছ থেকে ‘জিম্যাক্স–৫০০’ নামের নকল অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের মোট ৪৮টি বক্স উদ্ধার করা হয়, যেখানে প্রতিটি বক্সে ১৪টি করে ট্যাবলেট ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ওষুধগুলো স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের আসল পণ্যের আদলে তৈরি হলেও সেগুলো সম্পূর্ণ নকল এবং অনুমোদনহীন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে অপরাধ স্বীকার করায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ প্রদান করেন আদালত।

জানা যায়, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিনিধি পরিচয়ে মৃনাল অধিকারী ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির প্রস্তাব দিলে ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী এবং বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) জলঢাকা উপজেলা শাখার সভাপতি মাহবুবার রহমান মনি তার কথাবার্তায় অসংগতি লক্ষ্য করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবহিত করা হয়।

অভিযানের সময় জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহদি হাসানসহ জলঢাকা থানা পুলিশের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিসিডিএস জলঢাকা উপজেলা শাখার সভাপতি মাহবুবার রহমান মনি অভিযোগ করে বলেন, নকল ওষুধসহ অভিযুক্তকে আটক করার পর বিষয়টি সর্বপ্রথম জেলা ঔষধ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মিতা রায়কে অবহিত করা হলেও নকল ওষুধের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জনস্বাস্থ্য-ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি তিনি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। তার এ ধরনের ভূমিকা জনস্বাস্থ্য ও রোগী নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান, নকল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অপরাধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

অপরদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে ঔষধ প্রশাসনের নীলফামারী জেলার ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মিতা রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তারা নকল ওষুধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি, সমন্বিত অভিযান এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top