মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা দীঘিনালার ঐতিহ্যবাহী বোয়ালখালী নতুন বাজারে এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রত্যাশিত কেনাকাটার আমেজ নেই। পবিত্র মাহে রমজানের ১৩ দিন অতিক্রান্ত হলেও বাজারে দেখা যায়নি ঈদকে ঘিরে সেই চিরচেনা ভিড়; নেই ক্রেতাদের কোলাহল, নেই রাত পর্যন্ত জমজমাট বেচাকেনা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর রমজানের প্রথম দশক পার হতেই বাজারে ক্রেতাদের ঢল নামে। বিশেষ করে কাপড়, জুতা ও কসমেটিক্স এর দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু চলতি বছরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারজুড়ে বিরাজ করছে এক ধরনের নীরবতা ও অনিশ্চয়তা।
বোয়ালখালী নতুন বাজারের জনপ্রিয় কাপড়ের দোকান বিগ স্টার-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ মুন্না আজিজ বলেন, প্রতিবার ১০ রমজানের পর থেকেই দোকানে বেচাকেনার চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এবার ১৩ রমজান শেষ হলেও তেমন কোনো সাড়া নেই।ঈদ উপলক্ষে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি পণ্য এনেছি। এখনো বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।
আরেক ব্যবসায়ী মোঃ মোরশেদ বলেন, গত বছরের তুলনায় ক্রেতা অর্ধেকেরও কম। মানুষ বাজারে আসছে, কিন্তু কেনাকাটা কম করছে। অনেকেই দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন।”
বাজারের অন্যতম বৃহৎ জুতার প্রতিষ্ঠান তকি সু-এর পক্ষ থেকেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে অনেক টাকার নতুন ডিজাইনের জুতা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু রমজানের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও বিক্রি সন্তোষজনক নয়।
একই চিত্র কসমেটিক্স দোকানগুলোতেও।কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঈদের আগে সাধারণত কসমেটিক্সের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার কসমেটিক্স দোকানে তেমন ক্রেতা নেই। সারাদিন অপেক্ষা করেও আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না।
তবে ক্রেতাদের ভাষ্য ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,
দ্রব্যমূল্য অনেক বেড়ে গেছে। আগে ঈদের সময় পরিবারের সবার জন্য নতুন কাপড় কিনতাম, এবার শুধু বাচ্চাদের জন্য কিনছি। নিজের কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছি।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি খরচ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রভাব পড়েছে ঈদের বাজারে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় সীমাবদ্ধ থাকছে।
তবে আশার কথা জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, রমজানের শেষ সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। চাঁদরাতকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা বাড়বে—এমন প্রত্যাশায় এখনো প্রহর গুনছেন তারা।
বোয়ালখালী নতুন বাজারের ব্যবসায়ীদের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—রমজানের বাকি দিনগুলো কি ফিরিয়ে আনবে সেই প্রাণচাঞ্চল্য, নাকি মন্দার ছায়াতেই শেষ হবে এবারের ঈদ বাজার?