মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।
ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তিনি বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ সৃষ্টি করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, গত ৩ মার্চ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শিক্ষার্থী ঘর থেকে বাইরে বের হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে জলঢাকা পৌরসভার কাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শেষ ইসলাম (পিতা: মো. হাফি ইসলাম)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেষ ইসলাম এলাকায় বখাটে প্রকৃতির এবং মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। তার পূর্বে একাধিক বিয়ের ঘটনাও রয়েছে বলে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ওই শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাননি। পরে তারা বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে অবহিত করেন। তবে এখন পর্যন্ত ভিকটিমের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এদিকে অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগীর স্বজনরা দ্রুত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল আলম বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত ভিকটিমকে উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।