১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

প্রবাসীর বাড়িতে রাতের আঁধারে ২টি গরু চুরি

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীতে প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চোরদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কেরানীপাড়া গ্রামের মৃত জাবেদ আলীর ছেলে প্রবাসী খুরশেদ আলম ও মাহাবুবুল হাসান রিপনের বাড়িতে এঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, রাত ১২ টার পর যে কোনো সময় চোরেরা বাড়ির বাইরে থাকা গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৫টি গরুর মধ্যে ২টি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরিবারের সদস্য খোদেজা বেগম বলেন, “ফজরের নামাজের পর সকালে গোয়াল ঘরে দেখি বাইরের দরজা খোলা। পরে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখি ৫টি গরুর মধ্যে দুটি নেই। এরপর আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও গরুগুলোর কোনো সন্ধান পাইনি।”

গৃহবধূ আয়মনা আক্তার জানান, বাড়িতে তিনি ও তার জা এবং শাশুড়ি একসঙ্গে বসবাস করেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকায় তাদের ওপরই পুরো সংসারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমার স্বামী মাহবুবুল হাসান (রিপন) ও দেবর খুরশেদ আলম বিদেশে থাকে। আমরা প্রতিদিনের মতো রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সুযোগ বুঝে চোরেরা গোয়ালঘরের তালা ভেঙে দুটি গরু নিয়ে গেছে। আমাদের জন্য এটি বড় ক্ষতি।” মনে হয় রাতে তাদের বাসায় স্পে করা হয়েছে। যাতে সবাই গুমিয়ে পরি। আমি সেদিন থেকে এখনো ঘুম ঘুম আছে।

প্রতিবেশী মো. ইয়াকুব আলী জানান, তিনি রাত প্রায় ১১টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। তখন কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি। সকালে লোকজনের কাছ থেকে গরু চুরির খবর পান।

আরেক প্রতিবেশী আব্দুল লতিফ বলেন, “সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি বাড়ি থেকে দুটি গরু চুরি হয়েছে।”

পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিনয় চন্দ্র রায় বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি গরু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহীম তালুকদার জানান, চুরির খবর পেয়ে দ্রুত ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন বিট পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, চুরি হওয়া দুটি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top