রিফাজ বিশ্বাস লালন, ঈশ্বরদী(পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদক সম্রাজ্ঞী, দেহব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ মোছাঃ আলেয়া বেগম ওরফে “বস্তির রানী” নামে পরিচিত এক মহিলাদল কর্মীর নানা অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার(৪ মার্চ) সন্ধার পর থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত পৌর শহরের পূর্ব নূরমহল্লা এলাকায় কয়েক ঘন্টা ব্যাপী এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আলেয়া বেগম ওরফে বস্তির রাণীর কাছে নানারকম জুলুমের শিকার হওয়া অনেক ভুক্তভোগী তাদের উপর অত্যাচারের বর্ণনাও তুলে ধরেছেন।
বর্তমানে ওই এলাকাতে চরম এক আতংকের নাম হয়ে উঠেছে “বস্তির রাণী” খ্যাত এই আলেয়া বেগম। অভিযোগ রয়েছে নিজেকে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুব মহিলাদলের নেত্রী পরিচয়ে দলীয় প্রভাব বিস্তার করেছে আকাশছোঁয়া। আর এসব প্রভাবে দীর্ঘ সময় নিজ এলাকায় মাদক ও দেহব্যবসার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে রমরমা। শুধু তাই নয় যখন তখন যেকোন বিষয়ে এলাকাবাসীর কাছে দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। সেই চাঁদার টাকা দিতে না পারলে প্রাণনাশের হুমকিসহ শিকার হতে হয় নানারকম হয়রানির।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আলেয়া বেগম ওরফে বস্তির রাণীর প্রকাশ্যে চাঁদা নেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় রিকশাচালক জাহাঙ্গীর একটি নতুন বাড়ি ক্রয় করেছে। সেই বাড়ি কেনা-বেচা বাবদ এই আলেয়া বেগমকে চাঁদা দিতে হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নিজের অপকর্ম আড়াল করতে কখনও মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন আবার কখনও ভুক্তভোগী পরিবারের উপর নানারকম চাপসৃষ্টি করছেন।
বাড়ি ক্রয়বাবদ চাঁদা দেওয়া সেই ভুক্তভোগী মোঃ জাহাঙ্গীর অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে ও মেয়ে জামাই বাড়িটি ক্রয় করেছিল। কিন্তু হটাৎ করে আলেয়া তার দলবল এনে বাড়ির দলিল নিয়ে যায়। সেই দলিল চাইতে গেলে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বিকার করলে বাড়ি দখলের হুমকি দেয় বাধ্য হয়ে সেই টাকা দিতে হয়েছে।
পৌর শহরের পূর্ব নূরমহল্লা এলাকার আরেক ভুক্তভোগী মোছাঃ রুপালি খাতুন বলেন, একমাস আগে প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়াবিবাদের সূত্র ধরে আলেয়া সেখানে এসে আমার প্রতিপক্ষকে সমর্থন জানিয়ে কলাগাছ কেটে ফেলার মিথ্যা অভিযোগ আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১৫ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করে। সেই টাকা না দিলে আমাদের এলাকায় থাকতে দেওয়া হবেনা বলেও হুমকি দেন এই আলেয়া। আমরা তার এসব অত্যাচার থেকে রেহাই চাই।
স্থানীয় নিপা খাতুন, রেশমা ও দিপালী সাহা সহ আরো কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় মাদক ও দেহব্যাবসা চালিয়ে আসছে এই আলেয়া। আর চাঁদাবাজী তো আছেই। কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা বা তার অত্যাচারের শিকার হয়ে প্রশাসনের সহায়তা চাইলে আলেয়া তার দলবল নিয়ে বাড়িঘরে হামলা করতে আসে। আমরা বাধ্য হয়ে আজকে বিক্ষোভ করছি এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন অতি দ্রুত এই মাদক ব্যবসায়ী আলেয়া বেগমকে আইনের আওতায় আনা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলেয়া বেগমের বাড়িতে তার বক্তব্য নিতে গেলে তার সাড়া পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, যারা আলেয়ার কাছে হয়রানির শিকার হয়েছে তারাসহ এলাকাবাসী মিলে যদি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তবে অবশ্যই তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাদকের কাছে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা।