মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নে এক চিকিৎসকের স্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবদল নেতার অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে নিজের প্রভাবের মধ্যে নিয়ে আসেন পলাশবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসক আব্দুল মজিদের বাড়িতে আবুল কাসেমকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি টের পেয়ে মজিদের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত বিষয়টি তার বড় ভাই হারুন অর রশিদকে জানান।
হারুন অর রশিদ জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ছোট ভাইয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন অভিযুক্ত আবুল কাসেম। পরে মজিদের স্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি আবুল কাসেমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ব্যবহৃত একটি স্বর্ণের চেইনও কাসেম নিয়ে গেছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন আগেও হঠাৎ করে চিকিৎসক মজিদের স্ত্রী নিখোঁজ হয়ে যান। সে সময় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নিখোঁজ সংবাদের প্রচারও হয়। অনেকের ধারণা, ওই সময় আবুল কাসেমই তাকে আত্মগোপনে থাকতে সহায়তা করেছিলেন।
এলাকার প্রবীণ নারীসহ স্থানীয় অনেক বাসিন্দা বলেন, একটি অনৈতিক সম্পর্কের কারণে দুটি পরিবার আজ ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এলাকার সামাজিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আবুল কাসেমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
পলাশবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। আমিও বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলের পক্ষ থেকে এর দায় নেওয়া হবে না। বরং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে।”
অন্যদিকে চিকিৎসক আব্দুল মজিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমি বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।” তবে একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন বিষয়টি সংবাদ আকারে প্রকাশ না করতে এবং বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যা এখন পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।