১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলনে সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেফতার ৫

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর তলদেশে গভীর গর্ত করে বোমা মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগে ৫ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার ও পলাতক মিলিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন-১৯৯২ এর ৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের গুঞ্জরখা এলাকায় তিস্তা নদীর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র গভীর গর্ত করে বোমা মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি দেবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এছাড়া বোমা মেশিনের তীব্র শব্দে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয় এবং অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ডিমলা থানা পুলিশ তিস্তা নদীতে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। অভিযানের সময় নদীর ভেতরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় ৫ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পূর্ব খড়িবাড়ি দিঘীর পাড় গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৬), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আলিয়ার রহমান (৪৫), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে তাইজুল ইসলাম (৪৫), মশিয়ার রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫) এবং নুর ইসলামের ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৫)।

তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও ৫ জন পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বোমা মেশিন ট্রলিতে তুলে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডিমলা থানার এসআই পঙ্কজ চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে গ্রেফতার ও পলাতক মিলিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-১০, তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬।

ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী বলেন,
“তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

প্রশাসনের এই অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও জনবসতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল এলাকাবাসীর।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top