মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় টেন্ডার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেবকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি পালন করায় বুধবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
দুপুরে সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে থাকায় বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য সম্প্রতি একটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এতে প্রায় দশটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রক্রিয়া শেষে ‘বাঁধন ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তবে টেন্ডার না পাওয়ায় ‘মেধা কনস্ট্রাকশন’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেধা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আলমাস উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমানসহ কয়েকজনকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে টেন্ডার কেন অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে তা জানতে চান। একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার টেবিল চাপড়াতে থাকেন এবং তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যাওয়া মতিউর রহমান বলেন, “সকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকরা বসেননি। পরে জানতে পারি, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার বুলবুল আহমেদ বলেন, “গতকাল আমরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে একটি প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। হঠাৎ করে হাসানুর রহমানসহ কয়েকজন এসে টেন্ডার না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। তারা টেন্ডারটি বাতিল করে তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়ার দাবি জানান।”
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স লিপি বেগম বলেন, “স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। এর প্রতিবাদে আজ আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, “টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু টেন্ডার না পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি আমার কক্ষে এসে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। আমি তাদের মধ্যে দু’জনকে চিনতে পেরেছি—একজন হাসানুর রহমান এবং আরেকজন লায়ন। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান বলেন, “আপনি যেটা বলছেন সবই ঠিক আছে, তবে আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত নই।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বুধবার হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসক ও নার্সরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।