রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এক সাংবাদিকের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় আহত সাংবাদিককে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক আব্দুস সামাদ। তিনি জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি এবং পাটগ্রাম উপজেলা জিয়া পরিষদের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীরামপুর ইউনিয়নে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় একটি সড়কের ঢালাই ও সংস্কার কাজ চলছিল। ওই প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ওঠায় সাংবাদিক আব্দুস সামাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি ফরহাদ হোসেন লিটন সেখানে এসে সাংবাদিকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য লিটন ও তার ছোট ভাই সাংবাদিক আব্দুস সামাদের মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেন এবং তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাংবাদিক আব্দুস সামাদ গুরুতর আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি পাটগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল সবুজ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাফির কাছে পৌঁছে দেন। পরে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
পাটগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল সবুজ বলেন, শ্রীরামপুর ইউনিয়নে কাবিটা প্রকল্পের কাজে অনিয়মের ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন লিটন আমাদের সহকর্মী সাংবাদিক আব্দুস সামাদের উপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তিনি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে তাকে মারধর করেন। পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে ওঠায় দ্রুত আহত সামাদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত সাংবাদিক আব্দুস সামাদ জানান, “রাস্তার কাজে অনিয়মের ছবি তুলতে গেলে লিটন মেম্বার এসে আমাকে ধাক্কা দেন এবং ছবি তুলতে বাধা দেন। পরে তার ছোট ভাইসহ তারা আমার বুকে ও পিঠে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে যাই। পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সবুজ ভাই এসে আমাকে উদ্ধার করেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এদিকে এ ধরনের ঘটনার কারণে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন লিটনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।