মোঃ নাঈম মল্লিক, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে মোল্লারহাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে মোল্লারহাট ইউনিয়নের জন্য ২ হাজার ৪২৩টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আল আমিন মোল্লা খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার সকাল থেকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হলেও প্রশাসক ১৮০০ জন উপকারভোগীর মধ্যে চালের স্লিপ বিতরণ করেন। এতে ৬২৩ জন উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা দাবি করেন, এসব চাল খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে।
এ বিষয়টি জানাজানি হলে ইউনিয়ন পরিষদে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় অনিয়মের তথ্য ও পরিস্থিতি ভিডিও করতে গেলে দৈনিক বর্তমান বাংলা’র নলছিটি উপজেলা প্রতিনিধি মো. নাঈম মল্লিক হেনস্তার শিকার হন।
অভিযোগ রয়েছে, তাকে বাধা দেন মোল্লারহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রাজ্জাক সিকদার, শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ, বিএনপির প্রচার সম্পাদক এনাম, রুহিল আমিনসহ আরও কয়েকজন। তারা সাংবাদিকের পরিচয়পত্র দেখার পরও তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
হেনস্তার শিকার সাংবাদিক মো. নাঈম মল্লিক বলেন, “ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়মের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তখন প্রশাসকের কক্ষে কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে হট্টগোল হচ্ছিল। আমি ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন আমাকে বাধা দেয়। তারা আমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি সাংবাদিক পরিচয় দিই এবং আইডি কার্ড দেখাই। তারপরও তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করে।”
তিনি আরও জানান, পরে বিষয়টি প্রশাসকের নজরে এলে তিনি তাকে সেখানে থেকে সরিয়ে নিজের কক্ষে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ইউপি প্রশাসক মো. আল আমিন মোল্লা বলেন, “আমি আমার কক্ষে ছিলাম। হঠাৎ দেখি সাংবাদিকের সঙ্গে কিছু লোকের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। তখন দ্রুত বের হয়ে তাকে তাদের কাছ থেকে সরিয়ে আমার কক্ষে নিয়ে আসি।”
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ বলেন, “উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নামে বরাদ্দকৃত চাল কম বিতরণের সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।