মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামের হলদার পাড়ার একটি শিব মন্দিরে মহাদেবের শিলামূর্তি অলৌকিকভাবে আবির্ভূত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও ধর্মীয় আবেগ। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে শত শত ভক্ত মন্দিরে এসে পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হলদার পাড়ার ওই মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিয়মিতভাবে শিব পূজা করে আসছেন। গত শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে স্থানীয় বাসিন্দা আরোতি রাণী হলদার ঘুম থেকে উঠে মন্দিরে গিয়ে একটি শিলার মধ্যে মহাদেবের আকৃতির মতো দৃশ্য দেখতে পান বলে জানান। বিষয়টি দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয় এবং মন্দিরে ভিড় বাড়তে থাকে।
আরোতি রাণী হলদার বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরে শিব পূজা করে আসছি। কিন্তু এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি। সকালে মন্দিরে গিয়ে দেখি শিলার মধ্যে মহাদেবের মতো আকৃতি দেখা যাচ্ছে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই অনেক মানুষ দেখতে আসছেন।”
বালিয়াকান্দি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজয় কুমার পাল জানান, মন্দিরে শিলামূর্তির আবির্ভাবের বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জেনেছেন।
তিনি বলেন, “ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই বহু ভক্ত মন্দিরে গিয়ে পূজা-অর্চনা করছেন।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবছরের মতো এ বছরও চৈত্র মাস উপলক্ষে এলাকায় শিব পূজার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। তবে পূজা শুরু হওয়ার আগেই মন্দিরে শিলামূর্তির আবির্ভাব ঘটেছে বলে তারা বিশ্বাস করছেন।
এদিকে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, শনিবারের পরদিন রবিবার রাতে ঝড়ের সময় মন্দিরের ভেতরে শিবলিঙ্গ স্থাপনের জন্য একটি খাট বা আসনের মতো কাঠামোরও দেখা পাওয়া যায়। এ ঘটনাকে অনেকেই অলৌকিক বলে মনে করছেন।
ঘটনার পর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা মন্দিরে ভিড় জমাচ্ছেন। সেখানে তারা ভক্তিভরে পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ধর্মীয় অনুভূতি ও আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যশিত জঙ্গল ইউনিয়ন থেকে আসা বেশ কয়েকজন নারী ভক্ত বলেন, “শিব মন্দিরে অলৌকিকভাবে মহাদেবের শিলামূর্তির আবির্ভাব ঘটেছে এরপর কৌতূহল ও ধর্মীয় উৎসাহের জন্যই আমরা মন্দিরে এসেছি।”
তারা আরও বলেন, ” আরোতি রাণী হলদার তাদের বাড়ির আঙিনায় অবস্থিত মন্দিরে দীর্ঘদিন শিব পূজা করে আসছে। তিনিই প্রথম শিলামূর্তিতে মহাদেবের আবির্ভাবের দৃশ্য দেখতে পান। বিষয়টি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়লে আমরা সেটা দেখতে এসেছি।”
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি বলে জানা গেছে।