মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অসংখ্য অসহায় ও দুস্থ মানুষ চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবুর বিরুদ্ধে চাল আত্মসাৎ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে বেলতলি বাজার সংলগ্ন গুদামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাল বিতরণ কার্যক্রমে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই চাল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন বয়োবৃদ্ধ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা—যারা প্রকৃতপক্ষে এই সহায়তার সবচেয়ে বেশি দাবিদার।
চোখে পানি নিয়ে ফিরে যাওয়া একাধিক বৃদ্ধা নারী জানান, তালিকায় নাম থাকলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি এক মুঠো চালও। এতে ঈদের আগে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী রাশিদা বেগম বলেন, “স্লিপ পেয়েও সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল পাইনি। আমি আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকি, খুব কষ্টে দিন চলে। ঈদে কী খাবো, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।”
প্রতিবন্ধী আলতানুর রহমান বলেন, “আমি চলাফেরা করতে পারি না। ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও সারাদিন অপেক্ষা করে কিছুই পাইনি। এখন পরিবারের খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
অভিযোগ উঠেছে, যারা চাল পেয়েছেন তাদেরও নির্ধারিত পরিমাণ দেওয়া হয়নি। সরকার নির্ধারিত ১০ কেজির পরিবর্তে ৭ থেকে ৮ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সুবিধাভোগী।
সুবিধাভোগী কহিনুর বেগম বলেন, “১০ কেজির স্লিপ দিয়ে মাত্র ৭ কেজি চাল দিয়েছে। এটা স্পষ্ট অনিয়ম। আমাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবু বলেন, “চাল শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে কিছু মানুষ হয়তো পায়নি। তবে কেউ কম পেয়েছে—এমন তথ্য আমার জানা নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া জানান, “নিতাই ইউনিয়নের জন্য ২ হাজার ৭৮৭টি কার্ডের বিপরীতে ২৭ দশমিক ৮৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ ছিল। এখানে কাউকে কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করে প্রভাবশালী মহল সুবিধা নিচ্ছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।