রিফাজ বিশ্বাস লালন, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি:
ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের সম্মতি ও মতামতের ভিত্তিতেই গত ৭ই মার্চ আহবায়ক কমিটি’গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের সময় হাত তুলে সমর্থন জানালেও পরবর্তীতে প্রেসক্লাব বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হন সুমার খাঁন ও আমিরুল ইসলাম রিংকু।
প্রেসক্লাব বিরোধী সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী শহরের একটি রেষ্টুরেন্টে ইফতার মাহফিলের নামে পতিত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের পদধারী কথিত নামধারী সাংবাদিকদের নিয়ে একটি পাল্টা কমিটি গঠনের নীল নকশা করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রন জানানো হয় পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের স্থানীয় নেতাদের।
ইফতার মাহফিলের নামের অবৈধ কমিটি গঠনের গভীর ষড়যন্ত্র ও নীল নকশার অংশ বুঝতে পেরে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে তিনি ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের বর্তমান আহবায়ক কমিটিকে অবৈধ বলে আখ্যা দেন। যার সাথে নানা ধরণের রং-চং লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেন কতিপয় কুচক্রী মহল। সেই সমস্থ মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের এক জরুরী প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের নব-গঠিত কমিটির আহবায়ক আব্দুল মান্নান টিপু বলেন, গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঈশ্বরদী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে ঈশ্বরদীর প্রয়াত সাংবাদিকদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে প্রেসক্লাব বিরোধী একটি কুচক্রী মহল। সেখানে ভুল বুঝিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত করানো হয় পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব মহোদয়কে। তিনি পুরো ঘটনা না জেনেই ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের নবগঠিত আহবায়ক কমিটিকে অবৈধ উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আমরা জানতে পারি, প্রেসক্লাব বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সুমার খাঁন ও আমিরুল ইসলাম রিংকু সহ পতিত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের পদধারী কথিত নামধারী সাংবাদিক স্বপন কুমার কুন্ডু, কে এম আবুল বাসার, আব্দুল বাতেন, শফিউল আলম বিশ্বাস, শেখ মহসীন, শহিদুল ইসলাম, আবুল হাসেম, আতাউর রহমান বাবলু গংদের নিয়ে একটি পাল্টা কমিটি গঠনের নীল নকশা করা হয়। ষড়যন্ত্র ও নীল নকশার অংশ বুঝতে পেরে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করে বক্তব্য রাখেন হাবিবুর রহমান হাবিব মহোদয়। এজন্য আমরা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
আব্দুল মান্নান টিপু আরো বলেন, আহ্বায়ক কমিটি প্রেসক্লব দখল করতে দায়িত্ব নেয়নি। এ কমিটির দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রেসক্লবের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা। খুব শীঘ্রই আমরা গঠনতান্ত্রিক নিয়মে নতুন নেতৃত্বের হাতে এ দায়িত্ব তুলে দেব।
আব্দুল মান্নান টিপু আরও বলেন, ইফতার মাহফিলের আড়ালে যাদের নাম অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে প্রেসক্লবের বিরুদ্ধে পাল্টা কমিটি গঠনের অপচেষ্টা করা হয়েছিল সেই স্বপন কুমার কুন্ডু, কে এম আবুল বাসার, আব্দুল বাতেন, আমিরুল ইসলাম রিংকু, শফিউল আলম বিশ্বাস, শেখ মহসীন, শহিদুল ইসলাম, আবুল হাসেম, আতাউর রহমান বাবলু গংদের নেতৃত্বে ২০১৬ সালের ৫ ফ্রেবুয়ারী ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সভার দিন সকল সাংবাদিকদের অস্ত্রের মুখে আওয়ামীলীগ অফিসে বন্দি করে জয় বাংলা শ্লোগান’ দিয়ে এক তরফা কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রেসক্লবকে কুঙ্খিগত করা হয়েছিল। যা একটানা ৭ বছর অবৈধভাবে রাজত্ব করে তারা। সেই সময় স্বপন কুন্ডু ও বাতেন গং প্রেসক্লাবে বিএনপি মনা কয়েকজন সাংবাদিককে অন্যায় ভাবে বহিস্কার করে এবং ক্লাব উন্নয়নের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তী কমিটির কাছে স্বচ্ছ কোন হিসাব দাখিল না করেই দ্বায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যায়। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে অনেকটা আত্মগোপনে চলে যান ওই সকল পতিত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের পদধারী কথিত নামধারী সাংবাদিকরা। নিজের স্বার্থ হাছিল ও প্রেসক্লাবের শীর্ষ পদকে কুঙ্খিগত করার জন্য ওই সমস্থ পতিত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের পদধারী কথিত নামধারী সাংবাদিকদের একত্রিত করে পাল্ট কমিটি গঠনের অপচেষ্টা করে সুমার খাঁন ও আমিরুল ইসলাম রিংকু। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ভবিষ্যতে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয় প্রতিবাদ সভায়।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, মহিদুল ইসলাম, ওয়াহেদ আলী সিন্টু, ওয়াহিদুজ্জামান টিপু ও শহীদুল্লাহ খান সহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।