মোঃ ফাহিম,পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
সারা বছরের ব্যস্ততা আর ক্লান্ত বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এক প্রশান্তির পরশ বয়ে আনে ঈদুল ফিতরের এর ছুটি। প্রতিদিনের ক্লাস, ল্যাব,প্রেজেন্টেশন আর অ্যাসাইনমেন্টের চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়ে শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় আপন ঠিকানায়। দীর্ঘ যাত্রা, টিকিটের ঝামেলা সবকিছু পেরিয়েও প্রিয়জনের কাছে ফিরে যাওয়ার আনন্দ যেন সব ক্লান্তিকে মুছে দেয়।
বাড়িতে ফিরে পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়, একসাথে ইফতার ও ঈদের প্রস্তুতি সব মিলিয়ে তৈরি হয় অন্যরকম এক আবেগঘন পরিবেশ।
রমজানের সংযম শেষে ঈদের আনন্দ কেবল উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি হয়ে ওঠে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও আত্মিক প্রশান্তির এক অনন্য উপলব্ধি।
এই অনুভূতিগুলোকে কেন্দ্র করেই পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)-এর শিক্ষার্থীরা প্রকাশ করছে তাদের মনের কথা—পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ঈদের আনন্দ এবং রমজান শেষে এই উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য নিয়ে তাদের উপলব্ধি।
ঈদুল ফিতর: আনন্দের চেয়েও বড় যে শিক্ষা
প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে নিয়ে আসে আনন্দ, শান্তি ও আত্মিক পরিশুদ্ধির বার্তা। এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর এই দিনটি যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ পুরস্কার। রমজান মাসে রোজা রেখে মানুষ নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে এবং ধৈর্য, সংযম অর্জন করে যার পূর্ণতা পায় এই ঈদের দিনে।ঈদুল ফিতরের মূল তাৎপর্য আত্মশুদ্ধিতে।পুরো রমজান জুড়ে ইবাদত ও তওবার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে গড়ে তোলে, আর ঈদের দিন সেই প্রচেষ্টার আনন্দ ভাগ করে নেয়। এটি কেবল উৎসব নয়, বরং এটি অন্তরের প্রশান্তিরও।
এই উৎসব আমাদের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। ধনী গরিব সবাই একসাথে ঈদের নামাজ আদায় করে এবং একে অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে। যাকাতের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র মানুষদেরও ঈদের আনন্দে শামিল করা হয় এবং তাদের স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করা হয় যা ইসলামের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ঈদ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। এই দিনে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা, পুরনো বিরোধ ভুলে যাওয়া এবং ভালোবাসা বাড়ানোর এক বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়।
তবে ঈদের আসল শিক্ষা নতুন পোশাক বা বাহ্যিক আনন্দে নয়; বরং সংযম, ত্যাগ ও মানবিকতার চর্চায়। যদি এই মূল্যবোধগুলো আমরা সারা বছর ধরে ধারণ করতে পারি, তবেই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়িত হবে।
মইন উদ্দিন
কৃষি অনুষদ
খুশির বারতা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদ
পুরানো দিনের যত গ্লানি হোক আজ অবসান, আকাশে উঠেছে চাঁদ, মনে জাগে খুশির গান। পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দ্বারে সমাগত আনন্দ ও শান্তির বার্তা নিয়ে। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির পর এই দিনটি আসে পরম প্রশান্তি ও আনন্দ নিয়ে।
ঈদ মানেই সাম্য, মৈত্রী ও মিলনের এক অনন্য উৎসব। এই দিনে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়ায়। নামাজের ময়দান থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের আবহ।
দেশ থেকে দেশান্তরে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। এক মাসের সংযম শেষে আকাশে জ্বলজ্বল করা নতুন চাঁদ যেন আনন্দের বার্তা দেয়— “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।” সেই বার্তায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে প্রতিটি মুসলিম হৃদয়।আমার কাছে ঈদের প্রকৃত স্বার্থকতা লুকিয়ে আছে পরিবারের পুনর্মিলনে, প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানোর আনন্দে এবং শিশুদের নিষ্পাপ হাসিতে। ঈদের দিনটি তাই হয়ে ওঠে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও মিলনের এক অপূর্ব উপলক্ষ। পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো এমন একটি দিন আমাদের হৃদয়ে বয়ে আনে নির্মল সুখ ও স্মরণীয় মুহূর্ত।
সাইমা সুলতানা এলীন
আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ
আত্মশুদ্ধি থেকে আনন্দের মিলন: শিক্ষার্থীদের জীবনে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য
ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উৎসব। পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ মানে শুধু আনন্দ নয়, বরং দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ উপলক্ষ। ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের মাঝেও ঈদ আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ এনে দেয়।অনেক শিক্ষার্থী ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ফিরে গিয়ে শৈশবের স্মৃতিগুলোকে আবার নতুন করে অনুভব করে। পাশাপাশি বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দও ঈদের একটি বড় অংশ। ঈদে পরিবারকে একসাথে পেয়ে আনন্দ অনেক গুনে বেড়ে যায়।তবে ঈদের মূল বার্তা হলো সহমর্মিতা ও দানশীলতা—যা আমাদেরকে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে। আশেপাশের সকল শ্রেণীর মানুষদের একত্রিত হয়েই মূলত ঈদ উৎসব পালন করা উচিত।
পরিশেষে বলা যায়, ঈদ মানে পরিবার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব দের সাথে আনন্দ বিনিময়ের সুযোগ, যা দূর থেকে আসা প্রবিপবিয়ানদের কাছে স্মৃতিচারণ হয়ে থাকে। শুধু প্রবিপবি শিক্ষার্থী না, সকল শ্রেণীর লোকদের কাছেই ঈদ মানে খুশির সংবাদ। এই ঈদ নিয়ে আসুক রহমত এবং শান্তি।
ইব্রাহিম ইসলাম হাসিব
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ
ঈদ আনন্দে মুছে যায় ক্যাম্পাস জীবনের ক্লান্তি
ক্যাম্পাসের ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার এক অনন্য উপলক্ষ হয়ে প্রতি বছর ফিরে আসে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।
ক্লাস , এ্যাসাইনমেন্ট , পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে পবিত্র মাহে রমজানের শেষে ঈদ নিয়ে আসে সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ , সন্তুষ্টি ও প্রশান্তি । ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থীর মধ্যেই তখন দেখা যায় ভিন্ন এক উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিনের পড়াশোনার চাপের মাঝেও ঈদ যেন তাদের জন্য নিয়ে আসে স্বস্তির এক মুহূর্ত।তবে বর্তমান সময়ে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথাও মনে রাখা জরুরি। অনেক শিক্ষার্থী যাকাত ও ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও সহমর্মিতা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ঈদুল ফিতর কেবল উৎসব নয়; এটি পারস্পরিক ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণের এক অনন্য উপায় ।
মেহেরুন্নেছা লাবনী
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড প্রকৌশলী অনুষদ
নাড়ির টানে ফেরা, খুনসুটি আর আনন্দে ভরা শিক্ষার্থীদের ঈদ
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি।প্রতিবছর মাহে রমজানের শেষে মুসলমানরা পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করে।ঈদের আনন্দ ভাগাভাগিতে পবিপ্রবি বরিশাল ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাও বেশ মশগুল।ক্যাম্পাসের হল এবং বাইরের চায়ের দোকানগুলোতে ইফতারের পরপর আলোচনা রটে কিভাবে ঈদ উদযাপন করা হয় একেক শিক্ষার্থীর। কেউ তর্কে জড়ায় কোন ব্র্যান্ডের পোশাক ভালো,কেউবা তর্ক করে কোথায় পোশাকের দাম কম।কেউ সকাল বেলা ঈদের নামাজ শেষে পরিবারের সাথে সময় কাটায়, কেউ যায় বন্ধুদের নিয়ে ঘোরাফেরা করতে আর কেউ দেয় শান্তির ঘুম।এ নিয়ে নানান মতামত ভিন্নজনের।তারপর আসলো ঈদের ছুটি।ছুটির ঘন্টা বাজতেই ব্যাগপত্র গুছিয়ে নাড়ীর টানে একসাথে সকলের বাড়িফেরার হৈ-হুল্লোড় যেনো এই আনন্দকে প্রান দেয়। এর সাথে যুক্ত হয় সিনিয়রদের থেকে জুনিয়রদের সালামি নেওয়ার ধুম।সালামি নিতে গিয়ে হয় কতশত খুনসুটি। যা এই ঈদের অন্যরকম এক আনন্দ।
সুতরাং ঈদ আসেই মুসলমানদের মনে খুশির বন্যা নিয়ে।রাগ,অভিমান,দুঃখ-কষ্ট সব ভুলে দিনটি যেনো হয়ে উঠে সকলের জন্য আনন্দের এই প্রত্যাশা সকল শিক্ষার্থীর।তাই সকলকে জানাই ‘ঈদ মোবারক’।
নুর ইসলাম পিয়াস
অ্যানিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ
ঈদের ছুটি: ক্লান্ত শিক্ষাজীবনে স্বস্তি, পরিবারে ফেরা আর সম্প্রীতির আহ্বান
ঈদের ছুটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জীবনে সবচেয়ে প্রিয় সময় হওয়ার দাবি রাখে। রমজানের এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আসে আনন্দ ও খুশির বার্তা নিয়ে। পুরো বছর জুড়ে একটানা ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, টিউশনি, সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ নানা কাজ করে যখন শিক্ষার্থীদের হাপিত্যেশ উঠে যায় তখন শান্তি নিয়ে আসে ঈদের ছুটি। অন্যান্য সময়ে স্বল্প সময়ের ছুটি পেলেও বাড়ি থেকে ভার্সিটির দূরত্বের কথা চিন্তা করলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মনের টানকে উপেক্ষা করে। ব্যতিক্রম এখানে, ঈদের দীর্ঘ ছুটি। বাড়িতে একসঙ্গে ইফতার, ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ঈদের নামাজ, ঈদের ঘোরাঘুরি সবমিলিয়ে স্বপ্নের মতো সময়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্যস্থানগুলো পূরণ করে দেয়। তবে ঈদ মানে শুধুই পার্থিব আনন্দ উদযাপন নয়। দীর্ঘ এক মাস সংযমের পর ঈদ আমাদের মাঝে সৌহার্দ্য-সংহতির বার্তা বয়ে আনে। ঈদ মানে জাতি-বর্ণ-ধর্ম, সকল শ্রেনী-পেশা, দলমত নির্বিশেষে আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানো। তাই আমাদের উচিত হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সাম্য, মৈত্রী, সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। দেশের উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য, সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে যথাযথ ভাবা এবং দেশের প্রতি প্রেম ও দায়বদ্ধতার অনুভূতি আরও শক্তিশালী করা। তবেই ঈদ হবে আমাদের জন্য সুখ ও শান্তির। সবার ঈদ ভালো কাটুক।
সুমাইয়া আমিন
এ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ