মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর পলাশবাড়ী এলাকায় অবস্থিত মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে ড্রামে করে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক সাংবাদিককে বাধা দেওয়া এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে মব তৈরির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই ফিলিং স্টেশন থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ড্রামে করে ডিজেল ও পেট্রল সরবরাহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, খুচরা গ্রাহকদের লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলেও প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ড্রামে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা জ্বালানি নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ অনিয়মের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে স্টেশন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিককে ঘিরে ফেলেন এবং ভিডিও ধারণে বাধা দেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে মব তৈরির চেষ্টা করা হয়, যা উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা জ্বালানি সংকটে পড়ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, দিনের বেলায় স্বাভাবিক বিক্রি কমিয়ে রাতে গোপনে ড্রামে করে তেল সরবরাহ করা হয়, যা কালোবাজারি কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছে।
পলাশবাড়ী বাজারের মোটরসাইকেল চালক নুরনবী বলেন, “আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাই না, অথচ ড্রামে করে তেল ভরতে ব্যস্ত থাকে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়।”
অপরদিকে পথচারী রফিক বলেন, “রাতের অন্ধকারে এভাবে অবৈধভাবে তেল বিক্রি হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তারা উল্টো মব সৃষ্টি করে ভয়ভীতি দেখায়।”
এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সচেতন মহল বলছেন, জ্বালানি খাতে এ ধরনের অনিয়ম শুধু ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনই নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।