বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনায় এডভোকেট নুরুল আমিন দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি বরগুনা-১ আসনের সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর রেফারেন্সে প্টুয়াখালী দুদকের পিপি ছিলেন দীর্ঘ ৯ বছর। গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তন এর পর সেই ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধেই মামলা দিয়েছেন। নিয়মিত মামলা দিয়ে আওয়ামীলীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, পিপি নুরুল আমিনের বিপক্ষে এই অভিযোগ নতুন নয়। ২০০২ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে খোদ বিএনপি থেকেই তার সার্টিফিকেট জালিয়াতি ও সনদ ভুয়ার দাবি করা হয়। সাবেক পিপি এডভোকেট জহিরুল ইসলাম নুরুল আমিনের বিপক্ষে তার জাল সার্টিফিকেট ভুয়া নিয়ে মামলাটি করেন। সেখানে এডভোকেট জহিরুল ইসলাম উল্লেখ করে, নুরুল আমিন বিএ পাশ করেছেন ১৯৮৭ সালে। একই বছর তিনি এলএলবি ১ম বর্ষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই ঘটনা ইতিহাসে বিরল। এরপর তার ২য় বর্ষ সম্পন্ন হওয়ার কথা ১৯৮৯ সালে কিন্ত ৯০ সালের তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২ বছর কোন পরীক্ষা হয় নাই।

উল্লেখ্য, বরগুনা সরকারি কলেজে তার বি এ রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ৩৪৪৭৮। কাকতালীয়ভাবে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এর পরিপ্রেক্ষিতে যে লিখিত জবাব দেন সেখানে দেখা যায় তার এলএলবি রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ৩৪৪৭৮। এর মত জালিয়াতি ও লিগ্যাল স্ক্যাম বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি নেই। এছাড়াও সেখানে তিনি উল্লেখ করেন তার এলএলবি ভর্তির সন ১৯৮৫-১৯৮৬। বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৮৭ সালে। কিভাবে তিনি এলএলবি ভর্তি হন ১৯৮৫ সালে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে আইনজীবী মহলে। সচেতন মহল বলছেন, প্রতারণার সকল সীমানা অতিক্রম করে গেছেন এই টাউট এডভোকেট।
সাবেক পিপি এডভোকেট জহিরুল ইসলামের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এডভোকেট নুরুল আমিন তার নিজের সনদের সত্যতা সাপেক্ষে যে রিপোর্ট জমা দেন সেখানে তার এলএলবি ভর্তির সন দেয়া ১৯৮৫-১৯৮৬ যখন তিনি তার বক্তব্য অনুযায়ী একই সাথে বিএ তে ভর্তি হন।এরপর তার বক্তব্য অনুযায়ী এলএলবি ১ম বর্ষ পরীক্ষা আরম্ভ হয় ১১ জানুয়ারি ১৯৯০ সাল।অথচ তিনি উল্লেখ করেছেন ১৯৮৯ সালে ফাইনাল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।এডভোকেট নুরুল আমিনের আকাশ কুসুম লিখিত জবাবে অনুযায়ী এলএলবি পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার আগেই তিনি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। জালিয়াতি করতে গিয়ে তিনি নিজেই তালগোল পাকিয়ে ফেলেন।
সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীদের মতে, গত কয়েক বছরে তিনি আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সুবিধা নিয়েছেন। বরগুনা-১ এর সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর রেফারেন্সে তিনি পটুয়াখালী দুদকের পিপি হিসেবে ৯ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মামলার প্রেক্ষাপটে তাঁর নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া কিছু ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, মামলার ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের ঘটনাও ঘটছে।এডভোকেট হুমায়ুন কবির পল্টুর কাছেও তিনি মামলার সাপেক্ষে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছেন।

অভিযোগকারীরা বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং ভুয়া এডভোকেট নুরুল আমিনের ফিরিস্তি উঠে আসবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ বিচার বিভাগ ও আইন পেশার ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত এবং তারা বিচার চায়। তাই দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। ভুক্তভোগীরা মনে করেন এটা জেলা বিএনপির জন্যও হতাশাজনক। তারা মনে করেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কারণ এডভোকেট নুরুল আমিনের আইনজীবী সনদ ভুয়া। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন সদস্য বলেন পেশাগত আচরণ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ ফোরামে উত্থাপন করা উচিত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে। বরগুনার জুনিয়র আইনজীবীরা উৎকোচ প্রদান ছাড়া এডভোকেট নুরুল আমিনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। উল্লেখ্য ততকালীন সময়ে তার ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বরগুনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম আজাদকে মোটা অংকের টাকা প্রদান করে অভিযোগ ম্যানেজ করে ফেলেন।