মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। জেলার ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শত শত হেক্টর জমির ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৪৯৩ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতের আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভুট্টা ও বোরো ধান। এছাড়া মরিচ ও কলা ফসলও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে—ভুট্টা ৩২৫ হেক্টর, বোরো ধান ১৫০ হেক্টর, মরিচ ১৫ হেক্টর এবং কলা ৩ হেক্টর জমি।
উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিমলা উপজেলার ডিমলা সদর, পূর্ব ছাতনাই ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নে ৭৫ হেক্টর ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নে বোরো ধান ১৫০ হেক্টর, ভুট্টা ২০০ হেক্টর, মরিচ ১৫ হেক্টর এবং কলা ৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর ভুট্টা জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ঝড়ের সঙ্গে বড় আকারের শিলাবৃষ্টির আঘাতে মাঠের ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অনেক জমির ভুট্টা গাছ ভেঙে গেছে, বোরো ধান নষ্ট হয়েছে এবং মরিচ ক্ষেত ঝরে পড়েছে। এতে কৃষকদের স্বপ্নের ফসল মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) জাকির হোসেন বলেন, জেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯১৩ হেক্টর। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৯৩ হেক্টর জমির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে, ফলে অবশিষ্ট আবাদি জমি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৩ হেক্টর।
তিনি আরও জানান, এটি প্রাথমিক হিসাব। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত নিরূপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, আকস্মিক এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, যথাসময়ে সহায়তা না পেলে অনেক কৃষক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বেন।