মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুরে শবনম বেগম নামে এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা হোসেন গুড্ডুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শবনম বেগম প্রায় ২২ বছর ধরে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সামনে সাহেবপাড়া ক্যান্টিন এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বাড়িটি রেলওয়ের সরকারি জায়গায় অবস্থিত বলে দাবি করে তাকে এবং পাশের আরেকটি পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার বিকেলে হোসেন গুড্ডু শাহাবুল ইসলাম, আজাদ ও নাদিম রেজাসহ কয়েকজনকে নিয়ে শবনম বেগমের বাসায় গিয়ে তাকে বের হয়ে যেতে বলেন। এতে তিনি আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ঘরের আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দিয়ে বাড়িটি দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় ঘরে থাকা নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শবনম বেগম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে ভাড়া থাকি। আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন আমার থাকার কোনো জায়গা নেই।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি প্রকাশ্যেই ঘটেছে। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।
অভিযুক্ত হোসেন গুড্ডু বলেন, বাড়ির মালিক জায়গাটি বিক্রি করেছেন। সে অনুযায়ী ভাড়াটিয়াকে সরানো হয়েছে।
সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। কেউ দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম জানান, রেলওয়ের সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা করার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”