মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে দেশজুড়ে ডিজেল ও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে বোরো সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে পার্বত্যাঞ্চলে এর প্রকট প্রভাব দেখা দিয়েছে। তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং অতিরিক্ত দামের কারণে কৃষকরা সেচ পাম্প চালাতে পারছেন না, ফলে ফসলহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় তীব্র ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। ডিজেলের অভাবে অধিকাংশ সেচ পাম্প অচল থাকায় কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা। ফলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন এসব এলাকায় খাদ্যভাব সন্নিকটে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে গেলে দেখা যায়, সেচের অভাবে কৃষিজমির মাটি ফেটে চৌঁচির হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ফসলি জমিতে পানি দিতে না পারায় ধান, মরিচসহ বিভিন্ন মৌসুমি শাক সবজির ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, দীঘিনালায় ডিজেলের তীব্র সংকটে একটি মাত্র ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না। ডিজেলের অভাবে তারা পাম্প মেশিন চালাতে পারছেন না। ফলে জমিতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। দিনের পর দিন জমিতে পানি দিতে না পারায় পোকামাকড়ের উপদ্রব সহ পর্যাপ্ত ফসল ফলছে না।
মধ্য বোয়ালখালী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমির হোসেন বলেন, “পানি না পেয়ে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বোরো ধান চাষে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পানি। পানি না পেলে গাছের শেকড় শুকিয়ে যায়, ফলে ফলন কমে যায়।”
একই দুঃখ প্রকাশ করে কৃষক নির্মল চাকমা বলেন, “ধান গাছের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পানির প্রয়োজন হয়—বিশেষ করে রোপণ, কুশি গজানো এবং শিষে দুধ আসার সময়। এসময় পানি না পেলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।” গত দুই সপ্তাহ ধরে তেল সংগ্রহ করতে না পারায় চাষাবাদের জমিতে নিয়মিত সেচ বন্ধ রয়েছে। এবারের ফসল তলানিতে চলে গেলো।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমন জানান, “বর্তমানে ডিজেল সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ কার্যক্রমে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বোরো ধান চাষের জন্য নিয়মিত পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, আমরা কৃষকের পাশে আছি। তাদের জন্য জ্বালানি তেল সংগ্রহের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
সরকার ও প্রশাসনের কাছে কৃষকদের দাবি, দ্রুত সংকট কাটিয়ে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করে চলতি মৌসুমে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হতে কৃষকদের পাশে দাড়ানো। অন্যথায় পাহাড় তথা দেশের খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।