মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
“প্রভুর উৎসব প্রভুই করেন, মানুষ উপলক্ষ মাত্র”—এই বাণীকে ধারণ করে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মহেশ্বরী অঙ্গন মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে ২৪ প্রহরব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রক্ষ্ম মহানামযজ্ঞানুষ্ঠান।
বসন্তের আগমনী আবহে আয়োজিত এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে পুরো বহরপুর এলাকা হয়ে উঠেছে ভক্তিমুখর। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয়েছে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে মহানামযজ্ঞের শুভ সূচনা হয়। এসময় বরিশালের শ্রী গৌর গোবিন্দ দাস ও মাগুরার শ্রী চিন্ময়ানন্দ দাস (চঞ্চল গোসাই) শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, অধিবাস কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা পরিবেশন করেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত চলবে এই ২৪ প্রহরব্যাপী নামসংকীর্তন। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার খ্যাতনামা কীর্তন শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।
মহানামসুধা পরিবেশন করছেন, নেত্রকোনার শ্রী শ্রী জয় বিমল কৃষ্ণ সম্প্রদায়, যশোরের শ্রী শ্রী ভক্ত হরিদাস সম্প্রদায়, খুলনার শ্রী জয় কৃষ্ণ সম্প্রদায়, রাজবাড়ীর শ্রী শ্রী চন্দ্রাবলী সম্প্রদায়, ঝিনাইদহের শ্রী শ্রী প্রভু জয়নিতাই সম্প্রদায়, গোপালগঞ্জের শ্রী শ্রী জয়গোবিন্দ সম্প্রদায় এবং বহরপুরের শ্রী শ্রী মহেশ্বরী সম্প্রদায়।
“সেই তো তুমি ব্রজের কানায়, কলিতে গৌড় হরি—তোমারই নামে মুখরিত আজি বহরপুর নগরী”—এই মন্ত্রে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর ভোগরাগ ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
ভক্তদের অভিমত, মাগুরা থেকে আগত ভক্ত শ্রী নিতাই চন্দ্র কুন্ডু বলেন, “প্রতি বছরই আমরা এখানে আসি। এবছরও ৭-৮ জন একসাথে এসেছি। পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই ভালো।”
পাবনার নাজিরগঞ্জ এলাকার ভক্ত শ্রী কৃষ্ণপদ সরকার বলেন, “এখানে এলে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। তাই পরিবার নিয়ে এসেছি।”
কুষ্টিয়ার কয়া এলাকার ভক্ত শ্রী রাধানাথ বিশ্বাস বলেন, “ভক্তদের সঙ্গে একসাথে নামসংকীর্তনে অংশ নেওয়া এক অসাধারণ অনুভূতি। এখানে এলে মন ভরে যায়।”
উৎসবকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা ভক্তদের স্বস্তি ও আস্থা বাড়িয়েছে।