মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে নীলফামারীসহ দেশের ৬৪ জেলায় শুরু হয়েছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এরই অংশ হিসেবে তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এ সময় জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি অনলাইনে যুক্ত ছিলেন হাজারো প্রশিক্ষণার্থী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আধুনিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সচিব মাহবুব-উল-আলম জানান, বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ডিজিটাল দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণরা ঘরে বসেই আয় করতে পারছে, যা দেশের বেকারত্ব কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত মেয়াদে প্রায় ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি ধাপে ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের আয় ইতোমধ্যে কোটি টাকার ঘর ছাড়িয়েছে।
বর্তমানে ষষ্ঠ ব্যাচে দেশের প্রতিটি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত এসব প্রশিক্ষণার্থীকে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ইংরেজি ও সফট স্কিলসহ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ভাতা, খাবার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং কোর্স শেষে সনদ প্রদান করা হবে।
ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের নীলফামারীর প্রশিক্ষণ ভবনে এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ হাসান আলী, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের কো-অর্ডিনেটর ছবি রানী, সহকারী কো-অর্ডিনেটর ইসরাত তামান্না, প্রশিক্ষক সাব্বির আহম্মেদ, আব্দুল হালিম ও রেজাউল করিম হীরা, সহকারী প্রশিক্ষক সৈকত জামিল এবং ৭৫জন প্রশিক্ষণার্থী।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।