সজীব হাসান (বগুড়া) প্রতিনিধি:
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, গত ০৭/০২/২০২৬ তারিখে বাদী মোঃ রাসেল ইসলাম (৪০), পিতা মৃত সাদেকুর ইসলাম, সাং কালুপুর পাইকড়তলা, ইউনিয়ন দুর্লভপুর, থানা-শিবগঞ্জ, জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ”পয়স্বিনী এগ্রো” নামক গরুর খামার থেকে এজাহারনামীয় আসামী মোঃ জসিম উদ্দিন জুয়েল (৩৩) ও অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জন আসামীসহ ৫টি ষাঁড় গরু চুরি করে একটি অজ্ঞাতনামা নীল রংয়ের ট্রাকে তুলে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায় যা, বাদী খামারের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে সনাক্ত করেন। চুরি হওয়া ৫টি ষাঁর গরুর আনুমানিক মূল্য ১৬ লক্ষ টাকা।
পরবর্তীতে বাদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করেন। যাহা মামলা নং-০৬, তারিখ ০৩/০৩/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড, জিআর নং-৫৮/২৬। উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের ভিতিত্তে সিপিএসসি বগুড়া, র্যাব-১২ অজ্ঞাতনামা আসামীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে৷
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, উল্লিখিত মামলার অজ্ঞাতনামা আসামীগণ রাতের বেলা বগুড়া থেকে ৩ থেকে ৪ জন করে একটি সিএনজি নিয়ে রওনা করে, রাজশাহী থেকে এই চক্রের মূল হোতা মোঃ জসিম উদ্দিন জুয়েল (৩৩) ১টি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ন ১৮-৪৪১০) নিয়ে তার সাথে আরও এক থেকে দুই জনকে নওগাঁ, জয়পুরহাট ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সবাই একত্রিত হয়ে গরু চুরি করে ট্রাকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে বিক্রি করে৷

এরই ধারাবাহিকতায় সিপিএসসি বগুড়া, র্যাব-১২ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে উল্লিখিত মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ আসামী মোঃ তারাজুল ইসলাম (৩০), বগুড়া শিবগঞ্জ থানা এলাকায় অবস্থান করছে এবং তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে আসছিল৷ উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিপিএসসি বগুড়া, র্যাব-১২ এর একটি চৌকষ অভিযানিক দল বগুড়া শিবগঞ্জ থানা এলাকায় দুইটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে পুনরায় চুরির প্রস্তুতির সময় মোঃ তারাজুল ইসলাম (৩০), পিতা মোঃ আব্দুল জলিল মোল্লা, সাং কুশারঘোপ (দক্ষিন পাড়া জলিল মেম্বারের বাড়ি বালুয়াঘাট), থানা-সোনাতলা, জেলা-বগুড়া এবং মোঃ সজল মন্ডল (৩৯),পিতা মোঃ মোজাম্মেলের হক মন্ডল, সাং-পশ্চিম জাহাঙ্গীরাবাদ (নয়াপাড়া), থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-বগুড়াদ্বয়কে হাতে নাতে আটক করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া শিবগঞ্জ থানা এলাকায় আরো দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে মোঃ সজিব মিয়া (ওরফে) টাইগার (৩০), পিতা নাজমুল হোসেন, সাং-জীবনপুর দক্ষিণ পাড়া, থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-বগুড়া এবং মোঃ শরিফুল (২৬), পিতা শহিদুল ,সাং ফুলপুকুরিয়া, থানা-গোবিন্দগঞ্জ, জেলা গাইবান্ধাদ্বয়কে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত চোরচক্রের দেওয়া তথ্য মোতাবেক জানা যায় যে তারা গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজশাহী জেলার তানোর এলাকায় বাকী সদস্যদের সাথে একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন৷ পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১২, সিপিএসসি বগুড়া এবং র্যাব-৫, সদর কোম্পানী রাজশাহীর যৌথ অভিযানে রাজশাহী জেলার তানোর থানা এলাকা হতে উক্ত চক্রের সর্দার উল্লেখিত মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামী মোঃ জসিম উদ্দিন জুয়েল (৩৩), স্থায়ী ঠিকানা সাং-কুশার ঘোপ (কুশেরঘোপ), থানা-সোনাতলা, জেলা-বগুড়া বর্তমান সাং-হোল্ডিং নং-১৪৫, ওয়ার্ড নং-১৮, আসাম কলোনী, সিটি কর্পোরেশন, রাজশাহীকে চুরি কার্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন দ্রবাদি ও ১টি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ন ১৮-৪৪১০) সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

উল্লেখ্য যে, তাদের মধ্যে মোঃ তারাজুল ইসলাম (৩০) এর নামে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর , সিএমপি চট্টগ্রাম এর আকবরশাহ, সিএমপি চট্টগ্রাম এর হালিশহর, কক্সবাজার এর চকরিয়া এবং টাঙ্গাইল এর কালিহাতি থানায় পৃথক পৃথক চুরিসহ ৫টি মামলা রয়েছে। মোঃ সজল মন্ডল (৩৯) এর নামে নারায়নগঞ্জ বন্দর এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় অস্ত্র, চুরি ও মাদকসহ মোট ৬ টি মামলা রয়েছে, মোঃ সজিব মিয়া টাইগার (৩০) এর নামে রংপুরের মিঠাপুকুর ও বগুড়া শিবগঞ্জ থানায় ডাকাতি মামলাসহ ২টি মামলা রয়েছে, মোঃ জসিম উদ্দিন জুয়েল (৩৩) এর নামে চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় ১ টি চুরি মামলার প্রধান আসামী হিসাবে রয়েছে। আটককৃত আসামীদেরকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চোরচক্রের সর্দারকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় এবং বাকী ৪ জনকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।