এম,এম,রহমান,উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ২নং হারতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও জাতীয় গণমাধ্যমে অনুসন্ধানমূলক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত। সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদেরকেও সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি সাংবাদিকরা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালককে অবহিত করলে তিনি বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সরকারি কমিশনার আব্দুল্লাহ হেল মাফী স্বাক্ষরিত আদেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন—উজিরপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার।
এদিকে, সাইফুল ইসলাম তালুকদার নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব মর্যাদা) দীনেশ সরকার। তিনি বলেন, “একজন ইউপি সদস্যকে কখনোই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ ধরনের পরিচয় প্রদান আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।” একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত কমিটির চিঠি পাওয়া গেছে এবং কমিটির সদস্যরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল বলেন, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে, যাতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা যায়।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের একটি অডিও কল রেকর্ড সম্প্রতি জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সেখানে অভিযোগকারীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ মাহবুব গোমস্তা এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জনি জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।