মোঃ ফাহিম,পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বিএসসি ইন ভেট. সায়েন্স অ্যান্ড এএইচ (কম্বাইন্ড) ডিগ্রির সেকশন–এ (সাবেক ডিভিএম) শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা প্রদান এবং সাবেক এএইচ শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জনের কারণে এএনএসভিএম অনুষদে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় তালাবদ্ধ একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন খুলে দেওয়ার দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হন কম্বাইন্ড ডিগ্রির সেকশন–বি-এর শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সাবেক ডিভিএম ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে কম্বাইন্ড ডিগ্রির অন্য সেকশনের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন এবং নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অনুষদের শিক্ষকদের খোলা মাঠে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।
এ পরিস্থিতিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রমে ফিরতে দ্রুত একাডেমিক, প্রশাসনিক ভবন খুলে দেওয়ার দাবিতে ডিন ও প্রক্টরের শরণাপন্ন হয়। তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব শান্ত বলেন,” দীর্ঘ আন্দোলন ও ৯৯.২ শতাংশ শিক্ষার্থীর মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু করে। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় আজ আমাদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে এবং অযৌক্তিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই এবং স্বাভাবিকভাবে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে চাই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আলী আজগর বলেন,” বর্তমান পরিস্থিতি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। শিক্ষার্থীদের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এএনএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খোন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,” বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং দ্রুত একটি সমাধান দেওয়া হবে বলে আমরা আশা করছি। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি।”