৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

খোকসায় পান্তা-ইলিশের ইতিহাস থেকে আজ বৈশাখের চিরচেনা ঐতিহ্য বদলে যাচ্ছে

মোঃ নুর আলম পাপ্পুঃ খোকসা কুষ্টিয়াঃ

আর মাত্র ৫ দিন পর বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। খোকসা উপজেলায় নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ ঐতিহ্য ছিল—সকালবেলার পান্তা ভাত ও ইলিশ মাছ।

পুরনো কাহিনী অনুযায়ী, গ্রামীণ মানুষরা শীত ও গরমে সহজলভ্য, সহজে হজমযোগ্য খাবারের জন্য পান্তা ভাত খেতেন। নদীমাতৃক খোকসা অঞ্চলে ইলিশ মাছ সহজলভ্য হওয়ায় নববর্ষের সকালে ইলিশ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার প্রথা গড়ে ওঠে। স্থানীয় বৃদ্ধদের স্মৃতি অনুযায়ী, খোকসায় পান্তা-ইলিশের এই আয়োজন ৫০–৭০ বছর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। তখন গ্রামের বাড়িতে সবাই ভোরবেলায় একত্রিত হতো, পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ দিয়ে নতুন বছরের প্রথম আহার গ্রহণ করতো। বউবাড়ির শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই অংশ নিতেন, আর ইলিশের ধোঁয়া উঠা মাছ ও মাটির পাত্রে রাখা পান্তা ভাতের গন্ধে গ্রাম জুড়ে থাকতো উৎসবের আমেজ।

সাংস্কৃতিক আয়োজন যেমন খোকসা কলেজ, উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে গ্রাম এ পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রথা আরও জনপ্রিয় হয়। ১৯৯০–২০০৫-এর দশকে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত পান্তা-ইলিশের আয়োজন সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গ্রামের মানুষ পান্তা-ইলিশ খেয়ে একে অপরকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতেন, পাশাপাশি আগামী ফসলের জন্য দোয়া করতেন। এটি শুধুমাত্র খাবার নয়, বরং সামাজিক মিলন ও আনন্দের উৎসব হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বর্তমানে খোকসায় আগের মতো ইলিশ পাওয়া সহজ নয়। ইলিশের দাম বৃদ্ধি, সংরক্ষণের জন্য সরকারি অভিযান এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে পান্তা-ইলিশের আয়োজন কমে গেছে।
এক স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী জানান, আগে বৈশাখ মানেই ইলিশের ধুম থাকতো। এখন মানুষ সচেতন এবং দামও বেশি, তাই বিক্রি আগের মতো হয় না।
সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলেন, পান্তা ভাত থাকছে, তবে ইলিশ না থাকলেও বৈশাখের আনন্দ কমে না। অনেকেই অন্যান্য দেশীয় মাছ বা ভিন্ন খাবার দিয়ে উৎসব পালন করছেন।

খোকসা উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আহসান হাবিব বলেন, ইলিশ মাছ সংরক্ষণে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ, নদীতে অভিযান, জেলেদের সহায়তা এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

একসময় পান্তা-ইলিশ ছিল বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ। এখন অনেকেই বিকল্প খাবারে উৎসব উদযাপন করছেন। এতে ঐতিহ্যের রূপ কিছুটা বদলেছে, তবে ইলিশ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, পান্তা-ইলিশের এই ধারা কমলেও এটি খোকসার সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top