মোঃ নাঈম মল্লিক, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
প্রতিপক্ষরা সাত বছর ধরে নির্যাতন করে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন এক গৃহবধূ। এমনকি তাঁরা প্রাণ নাশের হুমকিও দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ অবস্থায় জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তিনি। রবিবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শাহাজাদী রেকসনা নামের এক নারী। তিনি নলছিটি শহরের পূর্ব মালিপুর বিআইপি সড়কের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, পৈত্রিক জমিতে শাহাজাদী রেকসানার একটি টিনসেডের ঘর রয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে ওই ঘর তিনি ভাড়া দিয়ে আসছেন। স্বামীর চাকরির সুবাদে তিনি ঢাকায় থাকেন। তাদের পেছনের জমির একাংশ বোনের কাছ থেকে কিনে নেন মোহাম্মদ আলী তালুকদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি ২০১৯ সালে ওই জমিতে একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
শাহাজাদী রেকসনা বাড়িতে না থাকার সুযোগে মোহাম্মদ আলী তালুকদার, তাঁর ছেলে রুবেল তালুকদার ও রেদোয়ান তালুকদার টিনসেডের ঘরটির একাংশ ভাঙচুর করে। তাঁরা শাহাজাদীর জমির ভেতরেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। এর প্রতিবাদ করায় ঘরের ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখায় প্রতিপক্ষরা। খবর পেয়ে শাহাজাদী রেকসনা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসলে মোহাম্মদ আলী নানাভাবে তাঁর জমি কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। জমি বিক্রি না করলে দখল করে নেওয়ার হুমকি দেয়।
এ অবস্থায় তিনি ঝালকাঠির আদালতে একটি মামলা করলে আদালত জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জমিও মেপে দুই পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলেরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় আদালতের নির্দেশ ও সালিস বৈঠকের রায় অমান্য করে ভবনের একতলা সম্পন্ন করে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁরা আবারো দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু করে। এতে শাহাজাদী বাধা দেন এবং আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও তাঁরা রাতের আঁধারে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বাধা দিলে ওই নারীকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে তাঁরা। তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে রুবেল ও রেদোয়ান।
১০ লাখ টাকা চাঁদার মিথ্যা অভিযোগ এনে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে সংবাদ পরিবেশন করিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও শাহাজাদী অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সাত বছর ধরে প্রতিপক্ষরা তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে। এখন প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে।
জোর করে তাদের জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিপক্ষরা কোন আইন-কানুন মানছে না। এ অবস্থায় তিনি জমি উদ্ধার ও জীবন বাঁচাতে প্রশাসনের ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ভাইয়ের ছেলে মেহেদী হাসান শাওন। এতে উপস্থিত ছিলেন ভাইয়ের ছেলে ইমরান ও ভাড়াটিয়া শায়লা।
এ ব্যাপারে রুবেল তালুকদার বলেন, আমরা তাদের কাছ থেকে জমি কিনে ভবন নির্মাণ করছি। এখন জমি কিনে কি আমরা অপরাধ করছি। তারা প্রয়োজনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে দলিল নিয়ে বসুক। আমরা রাজি আছি। যেটা সঠিক হবে আমরা মেনে নেবো।