১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কম্পোডিয়ায় মুক্তিপন দাবীতে রাজবাড়ীর ২ যুবককে অন্ধকার রুমে আটক: টাকার জন্যি খাবার দিচ্ছে না-আমাদের বাঁচান বলে পরিবারের কাছে আকুতি জানিয়ে অডিও বার্তা

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

কাকা, আমাগের বাঁচান, আমাগের কাজের কথা কয়ে ধরায় দিছে, বলে বাড়ী থেকে টাকা আন তারপর ছাড়বো। অন্ধকার রুমে আটকে রেখেছে।
৫ দিন না খেয়ে আছি, আমাদের ফোন টোন কেড়ে নিয়েছে। ফিরোজের লোক আটকে রেখে টাকার জন্যি মারধর করছে। বলে বাড়ীতি ক জমি, বাড়ী, ঘর বিক্রি করে টাকা দিতি। অন্ধকার রুমে আটকে রেখেছে। আর যোগাযোগ করতি পারবো না। এভাবেই পরিবারের কাছে আকুতি জানিয়ে অডিও বার্তা দিয়েছে কম্পোডিয়ার অন্ধকার রুমে আটক রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের খাটাগ্রাম ও খুবদী গ্রামের মনিব মন্ডল ও তারেক শেখ নামে ২ যুবক।

জানা গেছে, উন্নত জীবন ও ভালো বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কম্পোডিয়ার পাঠান দালাল চক্র। এ চক্রের ফাঁদে পা দেন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের খাটাগ্রাম ও খুবদী গ্রামে খালেক মন্ডলের ছেলে মনিব মন্ডল ও আক্তার শেখের ছেলে তারেক শেখ।

তারেক শেখের চাচা মুক্তার শেখ বলেন, ওরা আমার কাছে ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়ে অডিও বার্তা দিচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ শেষবারের মতো পরিবারের সাথে কথা হয়েছিল তাদের। পরে দালাল চক্র তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এমনকি আর কোনো যোগাযোগও করতে দেয়নি।

স্থানীয় কহেল উদ্দিন শেখের ছেলে ইউসুফ শেখ বলেন, প্রতারণার শিকার আমিও হয়েছি। আমাকে ভুয়া বিমান টিকিট দিয়ে কম্বোডিয়া নেওয়ার কথা বলে মালয়েশিয়া বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। সেখানে ৭ দিন জেল খেটে দেশে ফেরত আসতে হয়। পরে কম্বোডিয়া যাওয়ার আশায় আবার রওনা দিলেও সেই স্বপ্নও ভেঙে যায়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর আশায় জমি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করেছিলেন তাদের পরিবার। কিন্তু এখন তার কণ্ঠে শুধুই আহাজারি। আমার সব শেষ হয়ে গেছে, মায়েদের এমন কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সালাম মোল্লা, তার ছেলে রসূল মোল্লা এবং মামা ফিরোজ মোল্লা একটি সংঘবদ্ধ আদম ব্যবসায়ী চক্রের সাথে জড়িত। তারা ওখানে নিয়ে এখন আরও টাকার জন্য ছেলেদের আটকে রেখেছে। আমরা দেনাগ্রস্থ হয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।
আমাদেরকে বাঁচান, ছেলেদের উদ্ধার করে দেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হচ্ছে না।

বহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে ৫ লাখ টাকা, পরে তিন লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরিবারগুলো টাকা দিতে রাজি হলেও তাদের একটাই শর্ত ছিল নিখোঁজ ছেলেদের ফিরিয়ে দিতে হবে। অভিযুক্তরা প্রথমে এতে সম্মতি জানালেও পরবর্তীতে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। দিন পার হলেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান দেয়নি। বর্তমানে ওই ছেলেরা কোথায় আছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত রায় বলেন, অভিযোগের সাথে তারা আরও ডকুমেন্ট দিতে পারলে ভালো হতো। তারপরও এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top