১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আদিতমারীত স্বাস্থ কম্পেলেক্সের করোনা তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ: ফেঁসে যাচ্ছেন ডা. রাজন কুমার দাস, তদন্ত কাল

রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

​লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা তহবিলের অর্থ বিতরণে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

করোনা মহামারীর সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সম্মুখসারির যোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য করোনা তহবিলের মোট ৮ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে।

তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা তৌফিক আহমেদ প্রশাসনিক জটিলতায় এই টাকা বিতরণ করতে না পেরে সরকারি অ্যাকাউন্টে রেখে বদলি হয়ে যান। পরবর্তীতে ডা. রাজন কুমার দাস দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সেই টাকার হদিস মিলছিল না।

অভিযোগ উঠেছে,তিনি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে না জানিয়ে গোপনে এই বিশাল অঙ্কের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ৪৬ জন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হলে এবং দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ডা. রাজন। গত ০৬ মে ২০২৫ (নথি অনুযায়ী) গত ৬ এপ্রিল ৩ লক্ষ ও ৯ এপ্রিল ১ লক্ষ মোট ৪ লক্ষ টাকা তাড়াহুড়ো করে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পুনরায় সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা দেন। তবে বাকি ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার কোনো সদুত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতির এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (রংপুর বিভাগ) একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা.মো,আব্দুর রাজ্জাক প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতদন্ত কমিটি আগামীকাল ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (বুধবার) আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে সূত্র জানিযেছেন উক্ত তদন্ত কমিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নথিপত্র যাচাই এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রকৃত রূপ উদঘাটন করা হবে।

অভিযুক্ত ডা.রাজন কুমার দাস বর্তমানে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন। বারবার কর্মস্থল পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না, এঘটনায তাঁর সাথে জরিত আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ কম্পেলেক্স এর বড়বাবু মাহবুবুর আলম লিকু, সহ-আরও ৪ জনের নাম অডিও ফোনালাপের মাধ্যমে বেড়িয়ে এসেছে।

এদিকেনআদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ কম্পেলেক্স এর বড়বাবু মাহবুব আলম লিকু দীর্ঘদিন আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ কম্পেলেক্স চাকুচরত থাককালীন ব্যপক দুর্নীতি করেছেন বলে একাধিক লোক মুখে গুনঞ্জন উঠে ।পরে আদিতমারী উপজেলাবাসি তার দুর্নীতি ও কার্কলাপের বিষয় অতিষ্ট হয়ে মানববন্ধন করলে বিষটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে তাকে বদলি করেন।

কয়েক বছর পার হলে গোপনে তিনি যোগাযোগ করে প্রথমে ফুলবাগী পরে আবারও আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ কম্পেলেক্স বদলী নিয়ে আসেন। এখানে যোগদানের পরে শুরু হয় দুর্নীতি সহ নানান অপকর্ম। আবারও সেই চিরায়ত রুপে তিনি ফিরে আসেন। এবার তার যড়যন্ত্র থেকে রেহাই মিলেনি ড,রাজন কুমার দাসের। তার পাতানো ফাঁদ কুপরামর্শেই সংঘটিত হযেছে ৮ লক্ষ সত্তুর হাজার টাকা তছরুপের মতো বড় ঘটনা বলে জানান ড,রাজন কুমার দাস।

এদিকে স্বাস্থকম্পেলেক্স এর ভুক্তভোগী স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, শুধুমাত্র টাকা ফেরত দিলেই হবে না, সরকারি অর্থ তছরুপের দায়ে জরিত সকলকেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য আদিতমারী উপজেলা বাসির।

​এ বিষয়ে আদিতমারীর সচেতন মহল মনে করছেন, তদন্ত কমিটি যদি সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাহলে প্রকৃত সরকারী অর্থ আত্মসাৎকারী কে বা কারা তা বেড়িয়ে আসবে । তবে এই বড় মাপের অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত সকলকেই যথাযথ আইনের মাধ্যমে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আদিতমারী উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তির্বগ ও সূশীল সমাজ।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top