তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা দমাতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি কারও গুলি করার অনুমতি ছিল না। এই সময়ে হতাহতের প্রতিটি ঘটনা বিচার বিভাগীয় কমিশন দিয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং অন্য যারা আছেন– কাউকেই গুলি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে তাদের সংবিধান এবং আইন রক্ষায় কাজ করতে হয়েছে। এ সময়ে ক্ষেত্রবিশেষে কেউ কেউ মাঠে যে আইন ভাঙেননি, তা অস্বীকার করছি না। আমরা তদন্ত করে তাদেরও বিচারের আওতায় আনব। পুরো পৃথিবীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। সরকারের দায়িত্ব হলো, যারা আইন ভেঙেছে, অন্যায় করেছে, তাদের তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চায় আইনের প্রয়োগ ঘটবে শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের ওপরে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণসাপেক্ষে ফৌজদারি অপরাধের সাথে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের ওপরে আইনের প্রয়োগ ঘটবে, তাদের গ্রেফতার করা হবে। কোন সাধারণ শিক্ষার্থী কোনভাবে যেনো হয়রানির শিকার না হয়, এটি আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছি। পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলাপ হয়েছে, যে সকল শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে ছিল, স্লোগান দিয়েছে, পানি বিতরণ করেছে তাদেরকেও যেন কোনোভাবে হয়রানি করা না হয়, তাদের পরিবারের কোনো সদস্য যাতে কোনভাবে নাজেহাল না হয়। কারণ সব শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের আবেগ-অনুভূতিকে আমরা শ্রদ্ধা করি। এর সাথে আমাদের পুরো সমবেদনা ও সমর্থন আছে। কিন্তু তাদের আবেগকে পুঁজি করে যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তারা সাধারণ শিক্ষার্থী নয়। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, শিক্ষার্থী যারা তাদের আবেগ নিয়ে আন্দোলনে ছিলেন, কোনভাবে যাতে একটি শিক্ষার্থীও নাজেহাল না হয় আর সন্ত্রাসীদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।