রাজধানীতে প্রধান বিচারপতির বাসভবন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বাসভবন সুধা সদনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সদ্য বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, দলীয় সংসদ সদস্য ও নেতাদের বাসভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটে।
গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১০টায় পর্যন্ত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশের অন্তত ৪৪ জেলায় এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিদায়ী সরকারের ৯ জন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী এবং অন্তত ২৭ জন সংসদ সদস্যের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।এর আগে গত রোববার ৩৯ জেলায় জনপ্রতিনিধিদের বাসাবাড়ি, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, থানাসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়।
গতকাল বিকেলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ভাঙচুর করা হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে বেশ কিছু মানুষ দেয়াল টপকে ১৯ হেয়ার রোডে অবস্থিত প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ঢুকছিলেন। ভেতর থেকে চিৎকার, হইহুল্লোড় ও ভাঙচুরের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তবে এসময় প্রধান বিচারপতি বাসায় ছিলেন না।
ধানমন্ডিতে সদ্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বাসায়ও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ফটক ভেঙে অনেকে তাঁর বাসায় ঢুকে পড়েন। বাসার ভেতর থেকে ধোঁয়াও বের হতে দেখা গেছে। ভেতরে ভাঙচুর করা হয়।
ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় হাসিনা সরকারের সদ্য সাবেক মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের নিজ এলাকার বাসভবনে হামলা–ভাংচুর হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, নওগাঁ শহরের পোস্টঅফিস পাড়ায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাবেক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান, চাঁদপুরে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি ও মেহেরপুরে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের বাসভবনে ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়।
সদ্য সাবেক প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে নাটোরের সিংড়া উপজেলা সদরের গোডাউনপাড়ায় জুনাইদ আহ্মেদ পলকের বাড়িতে জনতা আগুন জ্বালিয়ে দেন। এখানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সিলেট নগরের শাপলাবাগে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর বাসভবন ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার বাসভবনেও হামলা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের মধ্যে বরিশালে আমির হোসেন আমু, নড়াইলে মাশরাফি বিন মর্তুজা, নারায়ণগঞ্জে সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান, নওগাঁয় নিজাম উদ্দিন জলিল, সিলেটে রণজিত চন্দ্র সরকার, মাদারীপুরে শাজাহান খান, ময়মনসিংহে শরীফ আহমেদ ও মোহিত উর রহমান, নাটোরে শফিকুল ইসলাম, বগুড়ায় মজিবর রহমান, খুলনায় মন্নুজান সুফিয়ান ও এস এম কামাল হোসেন, পঞ্চগড়ে নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া, ফেনীতে নিজাম উদ্দিন হাজারী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবদুল ওদুদ, লক্ষ্মীপুরে নুরুউদ্দীন চৌধুরী, জামালপুরে মির্জা আজম, বরগুনায় গোলাম সরোয়ার, মাদারীপুরে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেরপুরে ছানুয়ার হোসেন, সাতক্ষীরায় ফিরোজ আহমেদ, বান্দরবানে বীর বাহাদুর উশৈসিং, চুয়াডাঙ্গায় সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ও আলী আজগরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।