৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

লালমনিরহাটে মাদকবিরোধী বড় অভিযানে ২ হাজার নিষিদ্ধ ট্যাবলেট, সহ,-আটক ২

​রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে লালমনিরহাটে একটি বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

লালমনিরহাট জেলা সদরের দুরাকুটি এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

​মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোগলহাট সীমান্ত এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে মাদকের একটি বড় চালান লালমনিরহাট শহরের দিকে আসছে, সেই সংবাদের ওপর ভিত্তি করে ডিএনসি-র একটি চৌকস দল দুরাকুটি নামক স্থানে দ্রুত একটি অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) স্থাপন করে।

​সকাল ৯ টায় মোগলহাটের দিক থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেয় অভিযান পরিচালনাকারী দলটি। মোটরসাইকেলটিতে দুজন আরোহী ছিলেন। তাদের আচরণে সন্দেহ প্রকাশ পেলে ডিএনসি কর্মকর্তারা তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে দুই আরোহীর মাঝখানে সযত্নে লুকিয়ে রাখা একটি শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে ‘টাপাল-১০০’ ব্র্যান্ডের মোট ২,০০০ (দুই হাজার) পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

​অভিযানে মাদক বহনের অভিযোগে মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা হলেন মনির হোসেন (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, ও ইউসুফ আলী ২৮) উভয়ের গ্রাম উত্তর তালুক খুটামারা (বানভাসা), সদর উপজেলা, লালমনিরহাট।

​মাদক চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত অপরাধীদের পালসার মোটরসাইকেলটিও জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।যাহার লাইসেন্স নম্বর -রংপুর ল- ১১৯৯৪৭।

​অভিযান শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো, আশরাফুল হক দৈনিক আমার বাংলাদেশ সাংবাদিক কে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে এই নিষিদ্ধ ট্যাবলেটের ব্যবসা করে আসছিল। এই বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট তারা বিক্রির উদ্দেশ্যেই শহরে নিয়ে যাচ্ছিল।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত এই মাদক মূলত ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে তা তরুণ সমাজের কাছে মারাত্মক নেশাদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক লালমনিরহাট সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছ। যাহার নমাবর লাল- ২০ / মাদকের এই নেটওয়ার্কের পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top