জামায়াতের সাবেক নেতা মরহুম মীর কাশেম আলীর ছেলে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমানের দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর খোঁজ মিলেছে। সোমবার (৫ আগস্ট) মধ্যরাতে তিনি মুক্ত হন। বিএনপি ও জামায়াতপন্থি সুপ্রিম কোর্টের একাধিক আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমানের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১৬ সালের ৯ আগস্ট ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমানকে নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মিরপুর ডিওএইচএস’র ১১ নম্বর সেকশনের ৭ নম্বর রোডের ৫৩৪ নম্বর বাড়িতে থাকতেন তিনি। এই বাসা থেকেই দুই শিশু সন্তান, স্ত্রী ও বোনের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে।
একই দিনে জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক মরহুম গোলাম আযমের মেজ ছেলে সেনাবাহিনীর (চাকরিচ্যুত) সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান-আল আযমীও মুক্ত হয়েছেন।
জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, অধ্যাপক গোলাম আযমের সুযোগ্য সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (সাবেক) আবদুল্লাহিল আমান-আল আযমী ফিরে এসেছেন। আল্লাহতায়ালা যেন সব গুমকৃতকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।
২০১৬ সালের ২২ আগস্ট দিনগত রাতে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে আটক করা হয়। ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে গোলাম আযমের প্রবাসী আরেক ছেলে এ অভিযোগ করেন।
এর আগে সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের কচুক্ষেত এলাকায় অবস্থান নিয়ে সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও বন্দিদের স্বজনরা বন্দিদের মুক্তির দাবি জানান।
এসময় তারা বলেন, ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘরে অনেক মানুষকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। বন্দিদের ছাড়িয়ে নিতে আমরা অবস্থান নিয়েছি। তাদের অক্ষত অবস্থায় হস্তান্তর না করা পর্যন্ত আমরা ফিরবো না। বন্দিদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান চলবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীরপ্রতীক, ব্রিগেডিয়ার (অব.) মো. হাসান নাসিরসহ আরও অনেকে এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
হাসান নাসির বলেন, বছরের পর বছর বন্দিশালায় অসংখ্য মানুষকে গুম করে রাখা হয়েছে। সোমবার রাতের মধ্যে তাদের মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে দায়মুক্তির জন্য তাদের মেরে ফেলা হতে পারে। যদি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা না হয় তাহলে পরবর্তী ঘটনার দায় ডিজিএফআইয়ের বর্তমান কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে।