গত ১৬ জুলাই রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকা অবরোধকারী বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সাথে দুপুর ১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় পুলিশ ও ছাত্রলীগের। একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেখানে নিহত হন দুই জন।
নিহতদের একজন সবুজ আলী। ছাত্রলীগ তাকে নিজেদের কর্মী দাবি করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জানাজার আয়োজন করে। ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগে পড়তেন তিনি। নিলফামারীর সবুজ ঢাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি পরিচয় আড়াল করে রিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচ মেটাতেন। তার চাকরির জন্য বড় আশায় অপেক্ষা করছিল তার পরিবার।
তবে ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করা সেই সবুজের পরিবার এখন জানাচ্ছে অন্য কথা। সবুজের বড় ভাই নুরুন্নবীর অভিযোগ, তার ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিলেন না। তার লাশ নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের করা ওই জানাজায় ছিলেন ভাই নুরুন্নবী। তাহলে তিনি কেন তখন বলেননি? এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে বলতে বলা হয়েছিল যে সবুজ ভাই ছাত্রলীগ করে। আমি বার বার বলেছিলাম লাশ নিয়ে রাজনিতী করবেন না। আমার ভাইয়ের লাশ দিয়ে দেন, নিয়ে যাই।
কান্নাভেজা কণ্ঠে সবুজের ভাই আরও বলেন, সবুজকে খুব মর্মান্তিকভাবে আঘাত করে মারা হয়েছে। অনেক কষ্ট করে ভাইকে ঢাকা কলেজে পড়তে পাঠিয়েছিলাম। ওরা শুধু আমার ভাইকে মারেনি পুরো পরিবারটাকেই মেরে গেলেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সবুজ নিহতের ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেছে। তবে সবুজের ভাই এখন নিয়েছেন হত্যা মামলার উদ্যোগ। এ বিষয়ে সবুজের আরেক ভাই জানান, নিউমার্কেট থানায় মামলার কোনো কপিও তাদের কাছে নেই। তবে তাদের বলা হয়েছে যে সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে।