১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বিদায়ী সিইসি স্বীকার করলেন: ২০২৪ সালের নির্বাচন একদলীয় ছিল

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির একদলীয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যক্তির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল স্বীকার করেছেন, নির্বাচন মূলত একদলীয় হওয়ার কারণ কারচুপি বা সরকারিভাবে প্রভাবিত করার প্রয়োজনও ছিল না।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সামনে পদত্যাগের ঘোষণার আগে এসব কথা বলেন তিনি।

২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পেয়েছিল কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দিলেও মাঝপথেই দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হলো তাদের। কাজী হাবিবুল আউয়ালের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, বেগম রাশিদা সুলতানা, মো. আলমগীর ও মো. আনিসুর রহমানও পদত্যাগ করেছেন।

এই কমিশনের অধীনে সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ টানা চারবারের মতো জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে এক মাস আগে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে শেখ হাসিনার আমলে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্মকর্তারা পদত্যাগ করছেন নয়তো তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে বিদায়ী সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, দেশের প্রথম সাংবিধানিক সাধারণ নির্বাচন ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচন নিয়েও বিতর্ক ছিল। ১৯৭৯ ও ১৯৮৭ সালের সাধারণ নির্বাচন সামরিক শাসনামলে হয়েছে। ফলাফল নিয়েও বিতর্ক ছিল।। ১৯৯১ এর নির্বাচন সম্মত রাজনৈতিক রূপরেখার ভিত্তিতে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছিল। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন সাংবিধানিক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, সুক্ষ্ম বা স্থূল কারচুপির সীমিত সমালোচনা সত্ত্বেও, সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচন সেনাসমর্থিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে বিএনপি সংসদে মাত্র ২৭টি এবং আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়েছিল। নির্বাচন বিতর্কের উর্ধ্বে ছিল না। নিরাপদ প্রস্থান বিষয়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সেনাসমর্থিত অসামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দরকষাকষির বিষয়টি প্রকাশ্য ছিল। সে প্রশ্নে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের অবস্থানও গোপন ছিল না। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন সংবিধানমতে দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে।

 

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top