শেখ পরিবারের নামে ৫১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৮২ প্রকল্প নেওয়া প্রকল্প কাজে আসছে না। এসব প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে করা হয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি । রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেয়া এসব প্রকল্প কোন মানদন্ডও বিচার করা হয়নি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে।
শেখ হাসিনার নামে ২০১৭ সালে যশোরে একটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছিল ৩০৫ কোটি টাকা। কিন্তু যে লক্ষ্য নিয়ে এই পার্ক করা হয়, তা পূরণ হয়নি। দিনের পর দিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। শেখ কামালের নামে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর উদ্বোধন করা হয়। এতে ব্যয় হয় ১১৭ কোটি টাকা। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইনকিউবেটরটি তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। অনেকটা ‘অব্যবহৃত’ পড়ে আছে সুরম্য ভবন, কম্পিউটার ও ডরমিটরি। সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রকল্প নিয়ে বিনা প্রশ্নে তা বাগিয়ে নেন। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নামে হাইটেক পার্ক, শেখ কামালের নামে আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউটসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন করে নেন। যদিও এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই কাজে আসছে না। জনগণের টাকার অপচয় হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘এটা এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিলে জনগণ উপকৃত হবে। অথচ এখানে প্রকল্পের মানদণ্ড বিচার না করে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। আমি বলবো এটা জনগণের টাকার অপচয় ছাড়া কিছু নয়। প্রকল্পের অর্থের টাকা জনগণের পকেট থেকে আসে। অথচ স্বেচ্ছাচারিতার মতো করে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। জনগণের অর্থের প্রকল্প জনগণের কল্যাণে যদি না হয় সেটা দুর্ভাগ্য।’
বর্তমানে করণীয় প্রসঙ্গে ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘এখন করণীয় এ ধরনের প্রকল্প পুনরায় রিভিউ করে বাতিল করা। এডিপি পুনর্বিবেচনা করে দেখা উচিত। রাজনৈতিক প্রকল্প পরিহার করে ঢেলে সাজানো উচিত এডিপি। কাজটা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। অর্থের সঠিক ব্যবহার করতে হবে।’
অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিতে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বৈঠকে তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেশি। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখানে কোনো জবাবদিহি নেই। এক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মেগা প্রকল্প বা বড় প্রকল্পের বিষয়ে কোনো নীতি নেই। এগুলো নির্ভর করবে করবে কোন পর্যায়ে আছে। প্রকল্পের বিষয়ে সময় একটা বড় জিনিস। কিছু খরচ হয়ে গেলেই প্রকল্প শেষ করতে হবে বিষয়টা এমন না। প্রকল্পে লাভ-ক্ষতি দেখতে হবে। এটা অর্থনীতির যুক্তিতে চলে না।